‘সিলেট সুন্দর, আমার ভালা লাগে।’- সিলেট সার্কিট হাউজে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে পাশে রেখে এমন কথা বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। ঐতিহ্যের সিলেটে মঙ্গলবার দিনভর কাটালেন মার্কিন এ রাষ্ট্রদূত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে তার এই সফরে আসা। আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ ছিল নগরের ঐতিহাসিক কিনব্রিজের নিচে আলী আমজাদের ঘড়ির সামনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মার্কিন সংগীতের মূর্ছনায় মুখরিত হয় সিলেটের ঐতিহ্যের এ স্থান। অনুষ্ঠানটি ছিল দৃষ্টিনন্দন। এতে উপস্থিত ছিলেন সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীসহ শিক্ষার্থীরাও।
অনুষ্ঠানের আগে রাষ্ট্রদূত ঘুরে দেখেন আলী আমজাদের ঘড়ি। কিনব্রিজকে পেছনে রেখে ছবিও তোলেন। সকাল থেকে শুরু হয় তার অনুষ্ঠানমালা। বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সিলেটের এমপিদের সঙ্গে তিনি সকালেই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন অভিজাত একটি হোটেলের বলরুমে। ওই সাক্ষাতের পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে জানান- ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আলোচনায় সিলেটের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিলেটের উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।’
ঐতিহ্যের স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর সিলেট সার্কিট হাউজে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাতে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের অবদান এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সৌজন্য সাক্ষাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর সঙ্গে নগর ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের হাতে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চা-পাতার রেপ্লিকা এবং সিলেটের বিখ্যাত চা উপহার হিসেবে তুলে দেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের জন্য ঐতিহ্যবাহী সাত রঙের চা প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হয়। রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তা এরিক গিলান, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর মনিকা এল. সাই, ডেপুটি ডিরেক্টর রিচার্ড ব্রুনার এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা ফিরোজ আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পালনে এসেছেন। সাক্ষাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে উন্নয়ন সম্পর্কিত নানা বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
