বান্দরবান টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত, ১০ই জুলাই পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

বান্দরবান টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত, ১০ই জুলাই পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। অব্যাহত বৃষ্টিপাত, পাহাড়ধসের আশঙ্কা, পাহাড়ি ঢল, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও সড়ক যোগাযোগে বিঘ্নের কারণে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন আগামী ১০ই জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে।

গত রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ভারী বর্ষণের মধ্যে সোমবার বিকালে সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে আলিয়া সুলতানা (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম স্থানে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, থানচির দুর্গম নাফাখুম এলাকায় ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইড আটকা পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ধস ও নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অব্যাহত বর্ষণে থানচিতে সাঙ্গু নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা সদরের ব্রিগেড এলাকা, কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপা পাড়া ও সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। লামা ও আলীকদম উপজেলায় পাহাড়ি ঢল এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদমের প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে একটি বসতবাড়ির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিচু এলাকার অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করছেন।

অন্যদিকে, প্রায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পর বান্দরবান শহরে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, মেঘলা টিটিসি এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ সম্পন্ন করে নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। ইতিমধ্যে সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোথাও বন্যা বা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’ বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘ জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে সড়কের ওপর মাটি ও পাথর পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, সড়ক বিভাগ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত সড়ক সচল রাখতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন