রাজনগরে ২০ দিন পর লাশ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

স্বামী পরিত্যাক্তা জায়েদা বেগমের (৩৮) সুনাটিকি গ্রামের বাড়ির পাশেই থাকতো একই ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগানের ছেলে আলমগীর (৪০)। আলমগীরও ছিলেন বিবাহিত। পাশাপাশি থাকার সুবাদে উভয়ের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সামাজিক বাধা পেরিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন জায়েদা আলমগীর। কিন্তু সেই আলমগীরই কাল হলো তার জীবনে। জায়েদাকে হত্যা করে বাড়ির উঠোনের সামনের টিলায় ৮ ফুট মাটির গভীরে পুঁতে রাখে আলমগীর। নিহত জায়েদার বাবার জিডি সূত্রে পুলিশ আলমগীরকে আটক করে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর সে জায়েদাকে হত্যা করে লাশ বাড়ির উঠানের সামনে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করে। পরে সোমবার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠিয়েছে।

তবে কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা যায়, রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ের জায়েদা বেগমের বিয়ে হয়েছিল একই ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগানের আলমগীর মিয়ার সঙ্গে। তাদের ঘরে ছয় বছরের একটি ছেলে আছে। গত ১৮ই জুন জায়েদা বেগমের স্বামীর বাড়ি (আলমগীর মিয়ার) থেকে নিখোঁজ হন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জায়েদা বেগম বিদেশে চলে গেছেন বলে জানান স্বামী আলমগীর মিয়া। বিষয়টি সন্দেহ হলে জায়েদা বেগমের পিতা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় গত ৩রা জুলাই জিডি করেন। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান রাজনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরূপ সরকার। বিষয়টি তদন্তে নেমে আলমগীরের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর জায়েদাকে হত্যা করে লাশ মাটির নিচে পুঁতে রেখেছে বলে স্বীকার করে। পরে রাজনগর থানার পুলিশ তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম এবং রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে সোমবার আলমগীর আলীর নিজ বাড়ি উঠানের সামনে ৮ ফুট মাটির নিচ থেকে জায়েদার মরদেহ উত্তোলন করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জায়েদার স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহতের পিতা আব্দুল হান্নান বলেন, আমার মেয়ে সৌদি আরব চলে গেছে বলে জানায়। সে কোনো প্রমাণ দেখাতে না পারলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলমগীরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, জায়েদা বেগম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা ৩রা জুলাই রাজনগর থানায় জিডি করেন। জিডি’র প্রেক্ষিতে তার স্বামী আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জায়েদাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্য মতে, সোমবার তার উঠানের সামনে থেকে ৮ ফুট নিচে পুঁতে রাখা জায়েদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দাম্পত্য কলহের কারণে হত্যা হতে পারে। পুরো ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন