মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ অংশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় মাথায় কাপনের কাপড় পরে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ চরসোনারামপুর গ্রামের মানুষ। সোমবার দুপুরে আশুগঞ্জ গোলচত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। একই দাবিতে কয়েক দিন আগে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও এখনও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলতে থাকায় ক্ষুব্ধ মানুষ মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার তিনটি মৌজার নামে ইজারা নেওয়া হলেও বাস্তবে আশুগঞ্জের চরসোনারামপুর ও সোহাগপুর অংশে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার বালু লুট হচ্ছে। একইসঙ্গে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বণ্টন করছে বলেও অভিযোগ তাদের।
চরসোনারামপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, অবরোধের পর প্রশাসন আশ্বাস দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ড্রেজার চলতে শুরু করে। আমাদের অভিযোগের কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শীতল কুমার দাস বলেন, এভাবে চলতে থাকলে চরসোনারামপুর, আশুগঞ্জ বাজার, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নদীতীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়বে। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আর লাভবান হচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
অন্যান্য বক্তারা জানান, অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে ইতিমধ্যে ২০ একরের বেশি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি, মসজিদ, শ্মশান, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চরসোনারামপুর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ড্রেজার জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের খবর পেলে তারা ড্রেজার সরিয়ে নির্ধারিত সীমানায় চলে যায়। সীমানা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
