কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে সহযোগিতা জোরদারে একাধিক চুক্তি করেছে ভারত ও জাপান। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর দেয়া যৌথ বক্তব্যে মোদি বলেন, ভারত ও জাপান অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের প্রথম যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন (কো-ডেভেলপমেন্ট) প্রকল্পেও চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
তাকাইচিকে ‘ছোট বোন’ বললেন মোদি
ভারত সফরে আসা জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি তাঁকে একজন “দূরদর্শী ও জনপ্রিয় নেতা” বলে উল্লেখ করেন।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাকাইচিকে নিজের “ছোট বোন” বলে সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে বলেন, তাকাইচির জন্মস্থান জাপানের নারা প্রিফেকচারের সঙ্গে ভারতের বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারত-জাপান সম্পর্ক আগের মতোই দৃঢ় রয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে জি-৭ সম্মেলনে আমি বলেছিলাম, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে পারস্পরিক আস্থাই সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ। আমি গর্বিত যে ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
ভারতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
মোদি বলেন, ভারতের উন্নয়নের গল্পে জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এই সফরের মাধ্যমে আমাদের বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলোর মধ্যে এখন ভারত ও জাপান উভয়ই রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অঞ্চল হিসেবে আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেব।
তিনি জানান, আগামী ১০ বছরে জাপান ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করবে এবং দেশে পরিচালিত জাপানি কোম্পানির সংখ্যাও দ্বিগুণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত ও জাপান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে।
তিনি বলেন, আমি এবং প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বিশ্বাস করি, প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বই ভবিষ্যতে আমাদের সহযোগিতার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা এআই নিয়ে একটি যৌথ ঘোষণা দিয়েছি।
