ইইউর ট্যালেন্ট পার্টনারশিপে দুই বছরে ৬৯৮ কর্মী প্রস্তুত, নিরাপদ অভিবাসনে নতুন অগ্রগতি

ইইউর ট্যালেন্ট পার্টনারশিপে দুই বছরে ৬৯৮ কর্মী প্রস্তুত, নিরাপদ অভিবাসনে নতুন অগ্রগতি

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘সাপোর্টিং এ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ’ প্রকল্প সফলতার সঙ্গে দ্বিতীয় বছর পূর্ণ করেছে। দক্ষ জনশক্তির নৈতিক, নিয়মিত ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৬৯৮ জন কর্মী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তারা ইউরোপের শ্রমবাজার, বিশেষ করে ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। আজ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কারিগরি সহায়তায় ৩ মিলিয়ন ইউরো বাজেটের প্রকল্পটি ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বোয়েসেল।

জুন ২০২৬ পর্যন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৬৯৮ জন কর্মী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তারা মোট আটটি প্রধান ট্রেডে ইউরোপের শ্রমবাজারে কাজের জন্য প্রস্তুত। ইতালিতে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ইতালীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং অনেক প্রার্থী বর্তমানে সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তথ্য ইতালিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের চাহিদা অনুযায়ী ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মে কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, টেকসই ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম আরও উন্নত করতে হবে। প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা ও সহজলভ্যতা বাড়াতে এটিকে দ্রুত মোবাইলবান্ধব করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু কর্মীদের ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তাই ইতালির পাশাপাশি অন্যান্য ইউরোপীয় দেশেও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ প্রকল্প দেশের দক্ষ কর্মীদের বৈধ উপায়ে ইউরোপে অভিবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ১০ দিনের প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (পিডিও) ম্যানুয়াল বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্টিফাইড গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনে একটি এমপ্লয়ার-ম্যাচিং পাইপলাইন গড়ে তোলা।

পর্যালোচনা সভায় আইএলওর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার লোটে কেইসার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন