সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় শেষ মুহূর্তে বেলজিয়ামের পাওয়া সেই পেনাল্টি। যেখান থেকে গোল করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠে বেলজিয়াম। স্বপ্নভঙ্গ হয় সেনেগালের।
ম্যাচের ১২০ মিনিটে বক্সের ভেতরে বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সকে থামাতে স্লাইডিং ট্যাকল করেন সেনেগালের মিডফিল্ডার লামিন কামারা। মাঠের রেফারি সাইদ মার্তিনেজ খেলা চালিয়ে গেলেও বল মাঠের বাইরে যাওয়ার পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। এরপরই মনিটরে রিপ্লে দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি দেন রেফারি সাইদ মার্তিনেজ।
শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে টিলেমান্সের করা গোলে সেনেগালকে কাঁদিয়ে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে পা দেয় রেড ডেভিলরা। এর আগে সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। সেখান থেকে ৮৬ ও ৮৯ মিনিটে দুই গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এদিকে পেনাল্টির সিদ্ধান্তের পর মাঠেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সেনেগালের খেলোয়াড়েরা। এছাড়া ম্যাচ শেষে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও দাবি করেন, এটি কোনোভাবেই পেনাল্টি হওয়ার মতো ঘটনা ছিল না। তার ভাষায়, ‘আমাদের মনে হয়েছিল, ওটা কোনোভাবেই পেনাল্টি ছিল না। খেলোয়াড়রা মাঠে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে, সেটি তাদের অধিকার। শেষ পর্যন্ত ওই পেনাল্টিই আমাদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিলো।’
ম্যাচে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় সেনেগাল। থিয়াও বলেন, ‘ম্যাচটি আমাদের মুঠোতেই ছিল। কিন্তু ফুটবল ম্যাচ তো আর ৮৫ মিনিটের হয় না। বেলজিয়াম ম্যাচে ফিরে এসেছে আর আমরা চাপটা সামাল দিতে পারিনি।’ বিতর্কের মধ্যেই পেনাল্টি দেওয়ার পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্পোর্টিং নিউজ। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওভারহেড ক্যামেরার রিপ্লেতে দেখা যায়, কামারার স্লাইডিং চ্যালেঞ্জটি সরাসরি টিলেমান্সের পায়ে লাগে। বলে পরিষ্কারভাবে স্পর্শ করার আগেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফেলে দেওয়ায় সেটিকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সংবাদমাধ্যমটির মতে, ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বক্সের ভেতরে অসতর্ক ট্যাকলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফেলে দিলে সেটি পেনাল্টি হতে পারে। ভিএআর সেই কারণেই রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেয় এবং রিপ্লে দেখার পর রেফারি একই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
তবে পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি নিয়ে সাবেক ফুটবলারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল মনে করেন, পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি রয় কিন মনে করেন, সিদ্ধান্তটি ‘অত্যন্ত কঠোর’ ছিল। তিনি বলেন, ‘পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বেশিই কঠোর হয়ে গেছে। আর রেফারিও মনিটর দেখতে বেশি সময় নিয়েছেন। রেফারির সিদ্ধান্তে একটা দৃঢ়তা থাকা উচিত। অথচ তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন।’
