ফুলটাইম: বেলজিয়াম ৩-২ সেনেগাল (অতিরিক্ত সময়ে)
কী প্রত্যাবর্তনের রুপকথাটাই না লেখলো বেলজিয়াম। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে একেবারে শেষমুহূর্তে ফিরলো ম্যাচে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় ১২০ মিনিটেরও পঞ্চম মিনিটের ইনজুরি টাইমে জয়সূচক গোলটি পেলো তারা। ২০১৮ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে যেভাবে রূপকথা লিখেছিল, সিয়াটেলের লুমেন ফিল্ডে যেন তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালো বেলজিয়ানরা।
নির্ধারিত সময়ের শেষ ৫ মিনিটে লুকাকু ও তিলেমান্সের গোলে ২-২ সমতায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে মোমেন্টাম পুরোপুরি বেলজিয়ামের পক্ষে থাকলেও, ১০৯ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পায় সেনেগাল। তবে এনদিয়ায়ের কাটব্যাক থেকে এমবায়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ১১৭ মিনিটে বেলজিয়ামের লুকেবাকিওর একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে আবারও গোলবঞ্চিত হয় তারা।
তবে আসল নাটক জমে ওঠে ১১৯ মিনিটে। বক্সে তিলেমান্সকে সিস ফাউল করলে ভিএআর রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেনেগাল শিবিরের তুমুল প্রতিবাদের মুখেও ১২০+৫ মিনিটে ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে বল জালে জড়ান ইউরি তিলেমান্স।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ১২০+১২ মিনিটে সেনেগালের পেপ সারের ফ্রি-কিক বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে রেফারির শেষ বাঁশি বাজে। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেও শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে এক বুক বিষাদ নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো সেনেগাল।
৯১ মিনিট: বেলজিয়াম ২-২ সেনেগাল
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু! নির্ধারিত সময়ের শেষ ৫ মিনিটে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি তিলেমান্সের নাটকীয় দুই গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেও জয়ের খুব কাছে গিয়ে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল সেনেগাল। এখন যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।
৮৯ মিনিট: বেলজিয়াম ২-২ সেনেগাল
গোল! অবিশ্বাস্যভাবে সমতায় ফিরল বেলজিয়াম! ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ইউরি তিলেমান্স গোল করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও ৩ মিনিটের ঝড়ে সমতায় ফিরল বেলজিয়াম।
৮৬ মিনিট: বেলজিয়াম ১-২ সেনেগাল
গোল! বেলজিয়ামের হয়ে ব্যবধান কমালেন রোমেলু লুকাকু। মুনিয়েরের নিচু ক্রস থেকে নিয়ার পোস্টে ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি।
৫১ মিনিট: বেলজিয়াম ০-২ সেনেগাল
গোল! ব্যবধান দ্বিগুণ করল সেনেগাল। নিয়াকাতের লম্বা পাস থেকে বল বুক দিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইসমাইলা সার।
হাফটাইম: বেলজিয়াম ০-১ সেনেগাল
সিয়াটেলের লুমেন ফিল্ডে প্রথমার্ধ শেষে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে আছে সেনেগাল। ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ গোছানো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সেনেগাল দল মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়েছে।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় সেনেগাল। তবে জ্যাকবসের চমৎকার ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের শটটি বেলজিয়ামের গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ২৫ মিনিটে আর মিস হয়নি। সাদিও মানের ক্রস থেকে সারের নেয়া হেড এবারও পোস্টে লেগে ফিরে এলে, রিবাউন্ড থেকে ফাঁকায় থাকা হাবিব দিয়ারা সহজ ফিনিশিংয়ে সেনেগালকে লিড এনে দেন।
পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়াম সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে ডি ব্রুইনার পাস থেকে ডোকুর একটি ক্রস গোলকিপার দিয়াও দারুণভাবে লুফে নেন। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ৪৫ মিনিটে দে কুইপারের ২৫ গজ দূর থেকে নেয়া এক বাঁকানো শটও ঝাঁপিয়ে পড়ে চমৎকারভাবে রুখে দেন তিনি।
পুরো প্রথমার্ধে ৫৬ শতাংশ বল দখলে রেখে এবং আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়ে যোগ্য দল হিসেবেই ১-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে সেনেগাল। অন্যদিকে চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে লড়ছে বেলজিয়াম।
