মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ইকুয়েডরের। এর পরপরই দলের কোচের পদকে বিদায় জানিয়েছেন সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে হারের পর এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিদায়ী ঘোষণা দেন এই আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি জানান, দলের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারায় তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
গ্রুপ পর্বে জার্মানির বিপক্ষে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন ম্যাচ জিতে নকআউটের টিকিট পায় ইকুয়েডর। তবে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর চড়া আক্রমণ আর নিরেট রক্ষণভাগের সামনে নকআউট ম্যাচে দাঁড়াতেই পারেনি তারা।
ম্যাচ শেষে আজতেকা স্টেডিয়ামের কানফাটানো গর্জনের মাঝে বেকাসেসে বলেন, ‘বিশ্বকাপের সঙ্গেই আমাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমার মনে হয় না আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- ইকুয়েডরের ইতিহাসে এটিকে সেরা বিশ্বকাপ বানানোর, সেই কীর্তি আমরা গড়তে পেরেছি। তাই আজ আমার বিদায় বলার পালা আমার।’
এই ৪৫ বছর বয়সী কোচ আরও বলেন, ‘আমি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কারণ খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তা চুক্তি বাড়ানোর দাবি রাখে। তবে পেশাদার ফুটবলের নিয়ম আমি বুঝি। সিদ্ধান্তটা পরিষ্কার ছিল, যদিও এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’
ম্যাচের প্রথমার্ধে মেক্সিকোর আধিপত্যের কথা স্বীকার করে বেকাসেসে বলেন, ‘প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষ আমাদের পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও, আমরা কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।’
তবে বিদায়ের এই কঠিন মুহূর্তেও দলের তরুণ ফুটবলারদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। ইকুয়েডরের ইতিহাসের সবচেয়ে তরুণ দল নিয়ে লড়াই করার গৌরব ফুটবলারদেরই প্রাপ্য বলে উল্লেখ করেন বেকাসেসে।
বিদায়লগ্নে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আবেগী কণ্ঠে বলেন, ‘আমার কোনো অভিযোগ নেই। মানুষ আর খেলোয়াড়দের প্রতি কেবল কৃতজ্ঞতাই আছে। হৃদয়ের গভীর থেকে আমি তাদের অনেক ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা পেয়েছি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ছেলেরা ড্রেসিংরুমে আমাকে সুন্দর দুটি ঘণ্টা উপহার দিয়েছে এবং এই স্মৃতিটুকু নিয়েই আমি বিদায় নিচ্ছি।’
