‘আমিই বিশ্বকাপ জিতবো’- ফ্রান্সকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ইয়ামালের হুঙ্কার

‘আমিই বিশ্বকাপ জিতবো’- ফ্রান্সকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ইয়ামালের হুঙ্কার

ফন্ট সাইজ:

বয়স সবে ১৮ হলে কী হবে, আত্মবিশ্বাসে তিনি বিশ্বসেরা ডিফেন্ডারদেরও কাঁপিয়ে দিতে পারেন। গ্রুপ পর্বে স্পেনের পারফরম্যান্সে কিছুটা চড়াই-উতরাই থাকলেও, নকআউট পর্ব শুরুর আগে সরাসরি হুঙ্কার ছুড়লেন লামিন ইয়ামাল। দিদিয়ের দেশমের শক্তিশালী ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘লা রোজা’ দের চেয়ে ফরাসিরা কোনো অংশেই ভালো দল নয়। উত্তর আমেরিকায় চলমান এই বিশ্বমঞ্চের ট্রফিটা এবার তিনিই উঁচিয়ে ধরবেন- এমন এক সাহসী ভবিষ্যদ্বাণীও করে বসেছেন এই তরুণ তুর্কি।

গ্রুপ পর্বে নিখুঁত খেলে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স এবার শিরোপার অন্যতম হট ফেভারিট। তবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের এই তরুণ ফরোয়ার্ড ফরাসিদের মোটেই ভয় পাচ্ছেন না। ইউরো ২০২৪-এ ফ্রান্সকে হারানোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে স্প্যানিশ রেডিও কোপ-এর ‘তিয়েম্পো দে হুয়েগো’ অনুষ্ঠানে ইয়ামাল বলেন, ‘এমন কোনো দল নেই যাকে হারানো অসম্ভব। ফ্রান্স আমাদের চেয়ে ভালো দল নয়। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর থেকে ওরা আমাদের হারাতে পারেনি। এখানে কেউ ফেভারিট নয়, কেউ আমাদের চেয়ে এগিয়েও নেই। কোনো টুর্নামেন্ট এলে আমি সবসময় ভাবি যে আমিই জিতব। এখন আমার মাথায় এটাই ঘুরছে। আমি মনে করি, আমিই এবার বিশ্বকাপ জিতব।’

ইয়ামাল মাঠে যেমন ঠান্ডা মাথার ফুটবল খেলেন, মাঠের বাইরের আবেগ নিয়েও তিনি ততটাই পরিপক্ক। এই তারকা ফরোয়ার্ড জানান, অতীতে চোটের কারণে কিংবা মায়ের কান্না দেখে চোখ ভেজালেও, স্পেনের হয়ে বিশ্বজয় করলেও তিনি কাঁদবেন না। ফাইনাল জয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়ামাল এক অদ্ভুত প্রতিজ্ঞা করে বলেন, ‘আমি সহজে রোমাঞ্চিত হই না, কাঁদিও না। আমি কেঁদেছিলাম যখন ইনজুরিতে পড়েছিলাম এবং যখন আমার মাকে কাঁদতে দেখেছিলাম। যদি আমি বিশ্বকাপ জিতি, তাও আমি কাঁদব না। এটি অসম্ভব।’

বিশ্বজয়ের স্মৃতি শরীরে ধরে রাখতে কোনো শরীরে ট্যাটু আঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই মুসলিম ফুটবলার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমি ট্যাটু করাতে পারব না। কারণ আমি একজন মুসলিম, তবে আমি অন্য কারো শরীরেও এটা এঁকে দেব না।’ ফ্রান্সের তারকাখ্যাতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাসী সুর স্প্যানিশ শিবিরে বাড়তি বারুদ জোগাচ্ছে।’

ইয়ামালের এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করছেন, নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলোর আগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলেদের ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়ার জন্যই ইয়ামাল এমন মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন