পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে

ফন্ট সাইজ:

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কোনো সাধারণ ব্যয় নয়, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় তিনি ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা মঞ্জুরের দাবি করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানের এই পরিবর্তনশীল এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে জটিল বিশ্বব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অনেকাংশেই তার দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে।

আমাদের কূটনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফার্স্ট। যার অভূতপূর্ব সামপ্রতিক উদাহরণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া এবং চীন সফর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমাদের জনগণের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কোনো সাধারণ ব্যয় নয়, বরঞ্চ এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। আমি উল্লেখ করতে চাই, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে আমাদের প্রস্তাবিত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় আমাদের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যেটা আমাদের প্রায় দ্বিগুণ। ছাঁটাই প্রস্তাব অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ১৬ নম্বর দাবি হ্রাস করে ১ টাকায় নামিয়ে আনা হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। বন্ধ করে দিতে হবে প্রবাসীদের দেয়া আমাদের সকল সেবা।

জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বার্ষিক যে চাঁদা, আমরা দিতে পারবো না। যার ফলে জাতিসংঘে আমাদের সদস্যপদ স্থগিত হয়ে যেতে পারে। সম্পূরক বরাদ্দসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ছিল ১,৭৬৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তন্মধ্যে পরিচালন বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১,৫৪২ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২২১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রাক্কলন করা হয়েছে ১,৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। যার মধ্যে পরিচালন বাজেটে ১,৬১০ কোটি টাকা প্রাক্কলনের পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেটে প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। গত বছরের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪.৫৩৬ শতাংশ বেশি বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এখানে কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের বড় একটা অংশ ব্যয় করা হয় বিদেশে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্যে।

টাকার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার কারণে প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধির হার আরও কম হতে পারে, যেটা আমরা সম্পূরক বাজেট পাস করার সময় দেখেছি কয়েকদিন আগে। পরিচালন বাজেটের বাজেট বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আমি আপনাদেরকে জানাচ্ছি। প্রথমত, মালয়েশিয়ার জহুর বাহরু, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের ডেট্রয়েট, আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স ও আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে নতুন মিশন খোলা হয়েছে। ওই চারটি মিশনের কার্যক্রম আগামী অর্থবছরে শুরু করার জন্য মোট ৩০ কোটি ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস-এ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থার পক্ষে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলা পরিচালনার জন্যে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ৪টি ইউনিট ও বিদ্যমান ৮৩টি মিশনের পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য অবশিষ্ট ২১ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করার জন্যে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন বাজেটের যৌক্তিকতা আমি বলছি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের উন্নয়ন খাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ৫টি প্রকল্পের অনুকূলে সর্বমোট ২৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন