ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ঋণখেলাপের কারণে চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি শপথ নিতে পারবেন না। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পর্যালোচনার পর নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বহাল রাখেন।
পরবর্তীতে একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে গত ৩রা ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দেন যে, আসলাম চৌধুরী নির্বাচিত হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের নির্বাচনী ফল কার্যকর হবে না। এর মধ্যে চলতি মাসের ১৫ই জুন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আদালত নিযুক্ত দুই অ্যামিকাস কিউরি, সিনিয়র আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী আদালতকে সহায়তা করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩০শে জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। সবশেষে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হয়।
এদিকে চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে ঘিরে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, এ আসনে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটাররা আবারো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে পারেন। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের রায়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কোনো ব্যক্তির অযোগ্যতা চিরস্থায়ী নয়। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অযোগ্যতা দূর করে তিনি (আসলাম চৌধুরী) যদি পুনরায় যোগ্যতা অর্জন করেন, তাহলে পুনর্নির্বাচনে অংশ নিতে তার কোনো আইনগত বাধা থাকবে না। এদিকে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। সীতাকুণ্ডের কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করেছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
