দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ এবং মামলার ৩ নম্বর আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েতুল কবির শুনানি শেষে তিনি এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে নেয়া ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হয় ২৯শে জুন। এরপর গতকাল দুই আসামি কুষ্টিয়া জেলা দায়রা ও জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালতের বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাদের পুলিশ প্রহরায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। গত ১৯শে মে উচ্চ আদালত থেকে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহমেদ এবং ৩ নম্বর আসামি আসাদুজ্জামান আসাদকে ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
এর আগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ই এপ্রিল দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এ সময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ¦ালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তাণ্ডবলীলা চালায়।
হত্যাকাণ্ডের ৩দিন পর ১৩ই এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন যার নম্বর-৩৬। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহার নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে খাজা আহম্মেদ (৩৬)। তাকে ১ নম্বর প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার অপর ৩ জন আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও হোসেনাবাদ বিশ^াসপাড়া গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), ফিলিপনগর এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত সমর্থক রাজীব মিস্ত্রি (৩২) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ও ফিলিপনগর ইসলামপুর গ্রামের সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি (৪৫)। এরমধ্যে কিলার রাজীব মিস্ত্রি র্যাব’র অভিযানে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার হয়। মামলায় প্রধান আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা, উস্কানি এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
