ব্রহ্মপুত্রের থাবায় মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে ভিটামাটি। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানের চিলমারী ইউনিয়নের বিশারপাড়ার ২৫ পরিবার হারালো ভিটামাটি ও সাজানো সংসার। বছরের পর বছর যায়, থামে না ভাঙনের তাণ্ডব, ভাঙন রোধে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করায় প্রতি নিয়ত ভিটামাটি হারিয়ে মানুষ হচ্ছে নিঃস্ব। বিলীন হচ্ছে ফসলী জমি কমে যাচ্ছে খাদ্যের উৎপাদন। উজানের ঢলে আবারো দেখা দিয়েছে চিলমারীতে ভাঙনের তাণ্ডব। ভিটামাটিসহ সাজানো সংসার হারিয়ে মানববেতর জীবন-যাপন করছেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষজন। নামেমাত্র প্রতি বছরের ন্যায় ভরা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলানো হলেও নেয়া হচ্ছে দুর্নীতির আশ্রয়। জানা গেছে, উজানের ঢলে আবারো কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের তীব্র গ্রাসে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হচ্ছে ভিটামাটি, সহায়-সম্পত্তি।
প্রবল ভাঙনের কারণে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি, কড়াইবড়িশাল, বিশারপাড়াসহ বেশকিছু গ্রামের ভিটামাটি বিলীন হচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের পেটে। শুধু তাই নয়, ব্রহ্মপুত্রের থাবায় ইতিমধ্যে বিদ্যুতিক খুঁটিসহ শতশত হেক্টর জমি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও হুমকিতে পড়েছে মনতোলা, ঢুষমারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবড়িশাল নিম্ন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কড়াইবরিশাল বাজার, আশ্রয়কেন্দ্রসহ বেশকিছু সরকারি স্থাপনা। এদিকে সোমবার সকালে ভাঙনের তীব্রতার কারণে প্রায় ৩০ মিনিটে বিশারপাড়া এলাকার ২৫টি পরিবার হারিয়েছে তাদের সাজানো- গোছানো সংসার। গত কয়েকদিনে ভাঙনের শিকার হয়ে বেশকিছু পরিবার ভিটামাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে করছে মানবেতর জীবন-যাপন।
আতিকুর, আনসার, হামিদসহ অনেকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র কেড়ে নিলো ভিটামাটি, আমরা হারালাম সাজানো সংসার, লাখ লাখ টাকা সম্পদ গেল নদীতে তাহলে কেমন থাকবো ভাই। লাল মিয়া, শাহীন ও ফুলু মিয়া বলেন, হামার সম্পদ যায় নদীতে আর হামরা ত্রাণ দিয়ে কি করমো, নদীভাঙন রোধ হলে আমাদের পক্ষ থেকেই সাহায্য করতে পরমো ইনশাআল্লাহ্। চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে ভালো ফল পাইনি এছাড়াও লাখ লাখ টাকা সরকারি সম্পদ বিদ্যুতের খুঁটি ভেসে গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই ফলে প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি সরজমিন গিয়েছিলাম ইতিমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী দেয়া হয়েছে এছাড়াও ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
