সিলেট নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার লন্ডন প্রবাসী মাহমুদ আলীর বিরুদ্ধে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়েসহ নানা অভিযোগ করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী রোহেলা খানম। একইসঙ্গে মাহমুদ আলীর প্রথম পক্ষের স্ত্রী ফাতিমা বেগম, আবু তাহের তপু নামে এক যুবকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, ধর্ষণচেষ্টা, চাঁদা দাবি, সিসি ক্যামেরা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি। মঙ্গলবার সিলেট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন রোহেলা খানম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২২ সালের ১১ই ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মাহমুদ আলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে মাহমুদ আলী লিখিতভাবে দেশে-বিদেশে তার অন্য কোনো স্ত্রী নেই বলে অঙ্গীকার করেন।
বিয়ের সময় ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হলেও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার পরে পাঠানো এবং তার মালিকানাধীন পাঁচতলা একটি ফ্ল্যাট তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। রোহেলা খানমের দাবি, বিয়ের কিছুদিন পর লন্ডনে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং তাকে যুক্তরাজ্যে নেয়ার কথা বলে তার লন্ডনপ্রবাসী ছোট ভাই শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নেন মাহমুদ আলী। পরে তিনি জানতে পারেন, প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখেই মাহমুদ আলী তাকে বিয়ে করেছেন।
এ ঘটনায় তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকেই তাকে ফ্ল্যাট থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। মাহমুদ আলীর প্রথম পক্ষের স্ত্রী ফাতিমা বেগম একাধিকবার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রোহেলা খানম তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলা, ধর্ষণচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধ এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।
