অরুণাচল প্রদেশে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) অনুপ্রবেশ ও বিস্তৃত ভূখণ্ড দখলের যে অভিযোগ উঠেছে তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সোমবার (৩০ জুন) এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, এ ধরনের প্রতিবেদন ভিত্তিহীন এবং সঠিক নয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ডেক্কান হেরাল্ডের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী নাহ আদিবাসী সম্প্রদায় অভিযোগ করে যে, গত ছয় বছরে পিএলএ তাদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, শিকার এলাকা এবং কৃষিজমির বড় অংশ দখল করেছে। এ বিষয়ে নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (এনডব্লিউএস) আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেয়।
সংগঠনের সভাপতি কেরু চাডের বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের ভূমি, যেখানে আমরা অবাধে শিকার করতাম, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতাম এবং গবাদিপশু চরাতাম, সেসব এলাকা এখন চীনের পিএলএর দখলে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে চীনা তৎপরতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে এবং তাদের লক্ষ্য যত বেশি সম্ভব এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, ওয়িয়িং, পানিয়ার, মারপান, পোটরাং এবং টিন্ডিংতাং- এই পাঁচটি এলাকা ২০২০ সাল পর্যন্ত নাহ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যগত নিয়ন্ত্রণে ছিল।
তবে ধীরে ধীরে এসব এলাকা চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়। নাহ সম্প্রদায়ের মতে, এসব স্থানের কয়েকটি তাদের ধর্মীয় তীর্থস্থান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সোমবার এক বিবৃতিতে ভারতীয় বাহিনী বলেছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনা পিএলএর সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশ এবং নতুন শিবির স্থাপনের বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমরা দেখেছি। এসব দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে এবং অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক কোনো চীনা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
