কাতারের শাহানিয়া এলাকায় ২১ জুন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে সিলেটে পৌঁছেছে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা লাশগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তা তাজউদ্দিন মানবজমিনকে জানান, লাশ হস্তান্তরের সময় দাফনের খরচ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে আরও তিন লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে। সকাল ১০ টার দিকে লাশগুলো নিয়ে স্বজনরা বাড়ির পথে রওয়ানা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
নিহতরা হলেন, ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।
সকালে লাশ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, সিউকের চেয়ারম্যান ও নগর বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, নগর জামায়াতের আমীর মো. ফখরুল ইসলাম ও ঝিঙাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বক্কর।
সকাল পৌনে সাতটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ ফ্লাইটটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। নিহতদের স্বজনরা আগে থেকেই বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। কফিনগুলো বের হয়ে আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।
এ সময় এমপি আবুল হাসান বলেন, ‘মারা যাওয়া প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানসহ নানা সুবিধা দিতে এরই মধ্যে সংসদে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রবাসীদের ব্যাপারে আন্তরিক। সরকার প্রবাসী পরিবারের পাশে রয়েছে।’
