ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে আসা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ

সহযোগীদের খবর

ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে আসা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ

ফন্ট সাইজ:

বণিক বার্তা

‘ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে আসা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নীতি সুদহার দুই অংকের ঘরে উন্নীত করা হয়েছিল।

যদিও চাহিদার লাগাম টেনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের এ নীতি সফল হয়নি। উল্টো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। জিনিসপত্রের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামীকাল শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রযোজ্য এ মুদ্রানীতি আজ ঘোষণা করা হবে।

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার জন্য আজ বেলা ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সভাপতিত্ব করবেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি তার প্রথম মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা জানান, বরাবরের মতো নতুন মুদ্রানীতিরও প্রধান লক্ষ্য হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এক্ষেত্রে জাতীয় বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নীতি সুদহার (রেপো রেট) অপরিবর্তিত থাকবে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্নে (৪ শতাংশে) নেমে এসেছে। উচ্চ সুদহার বজায় রেখে এ প্রবৃদ্ধি তথা উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের বাস্তবায়ন নিশ্চিতে জোর দেয়া হবে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতি এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত মুদ্রানীতি তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না। মুদ্রানীতিতে যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেগুলোও অর্জিত হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে সরকারকেই এখন মূল ভূমিকা রাখতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। সেটি হলে বিরাজমান মূল্যস্ফীতি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত কয়েক বছরে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ প্রধান অর্থনীতিবিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হাতিয়ার হলো সুদহার বাড়ানো। বাংলাদেশ ব্যাংক গত কয়েক বছর এ নীতির প্রয়োগ করেছে। কিন্তু ফলাফল একেবারেই সন্তোষজনক নয়। এটি পরীক্ষিত যে তিন-চার বছর ধরে বাংলাদেশে এ নীতি ব্যর্থ হয়েছে। বিরাজমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে রাজস্ব নীতি, বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কার লাগবে। অন্যথায় চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মুদ্রানীতি কোনো কাজে আসবে না। আর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সবার আগে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে।’

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। কিন্তু এ লক্ষ্য অর্জিত না হয়ে উল্টো মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত মাসে (মে) দেশের গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। মার্চের পর থেকে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও এ প্রবৃদ্ধির হার এখন ৪ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। এপ্রিলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মে ও জুনে এ পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের ঘরে নামলেও সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এপ্রিলে এ ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এরপরের দুই মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা আরো বেড়েছে। যদিও ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সরকারের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। ঘোষিত এ বাজেট গতকাল জাতীয় সংসদে পাসও হয়েছে। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত এসব লক্ষ্য অর্জনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নীতি সুদহার (বর্তমানে ১০ শতাংশ) কমানোর সম্ভাবনা নেই। বেসরকারি খাতকে প্রাণবন্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এটি বাস্তবায়ন হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। মুদ্রানীতিতে এ বিষয়ে বিশেষ জোর দেয়া হবে।’

প্রথম আলো

‘করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ল, ব্যাংক হিসাবে টিআইএন নয়’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়িয়েছে।

এই অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

জাতীয় সংসদে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দেন। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ টাকা।

ফলে ১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা মোট ৫০ হাজার টাকা বাড়বে। এতে মধ্যম আয়ের মানুষেরা আরেকটু স্বস্তি পাবেন।

করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধিসহ তিন ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বাদ দেওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন খাতে নতুন কর ও ভ্যাট ছাড়যুক্ত করাসহ ৬৪টি সংশোধনী যুক্ত করে গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থবিল, ২০২৬ পাস হয়।

অর্থমন্ত্রী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে নানা ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়। বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের নানামুখী আলোচনা, সমালোচনা ও জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবের পর সংশোধনীসহ অর্থবিল গতকাল পাস হলো।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে গতকাল সকালে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপব্যবস্থা দূর করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের জনগণের কাছে সেই অঙ্গীকার করছি।’

প্রধানমন্ত্রী করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোসহ বিভিন্ন খাতে করছাড়ের প্রস্তাব করেন। পরে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর অধিকাংশ প্রস্তাব গ্রহণ করে সংসদে অর্থবিল-২০২৬ সংশোধিত আকারে পাস করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

অর্থবিল পাসের আগে সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেট প্রণয়নের পর সংসদ সদস্য, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া মতামত সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। দায়িত্বশীল সমালোচনা ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ গ্রহণের ফলেই অর্থবিলে একাধিক সংশোধনী আনা হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর কমল

অর্থবিলে আগামী অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থবিলে বলা হয়েছে, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এই সীমা হবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে তা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হবে। যদিও আয়করের সর্বনিম্ন হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে এবারের বাজেটে।

করমুক্ত আয়সীমার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি গড়ে তুলতে চায়, যাতে করদাতারা আগাম ধারণা পান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন।

শিক্ষা ও ব্যবসা—দুই খাতেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে অর্থবিলে। প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর বহাল রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।

অর্থবিলে সেই সুপারিশ কার্যকর করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভাষা শিক্ষা উন্নত করা এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

বাজেটে অনলাইন ভিডিওভিত্তিক সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপের প্রস্তাব ছিল। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত কর থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ পরিশোধে উৎসাহিত হবে। এতে সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরে সংশোধনীতে করের হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়।

বাজেটে বিনা প্রশ্নে ফ্ল্যাট ও প্লটের প্রকৃত মূল্য আয়কর নথিতে দেখানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এ বিধান নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরির বিষয়টি নজরে আসার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমাতেই এ বিধান আনা হয়েছিল। তবে অনেকেই এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই প্রস্তাবিত এই বিধান প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। পরে এ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

করের আওতা বাড়াতে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবেও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তা বাতিলের প্রস্তাব দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী এটিও গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ-গ্যাস-সংযোগসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেন, যা গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল কমল করপোরেট কর’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে এবং করপোরেট কর কমিয়ে সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাশ হয়েছে। এছাড়াও আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস আইনে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। যেমন: কোম্পানি ও ব্যক্তি করদাতার লভ্যাংশ কর আগের মতোই বহাল; জিরো কুপন বন্ডের আয়কে করমুক্ত এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াতপ্রাপ্তির সীমা প্রত্যাহার করা হয়েছে। গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট করও ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির কশাঘাত থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বস্তি দিতে নতুন অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী এই করহার বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার আয়কর ফাইলে থাকা স্বর্ণ বিক্রির গেইন ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার এবং বহুল আলোচিত ‘স্বতঃপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ ধারাটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

সোমবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে তা পাশ হয়।

বর্তমানে আইপিও, রাইট ইস্যু বা আরপিওর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধনের অন্যূন ১০ শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে হস্তান্তর করলে ওইসব কোম্পানির করপোরেট কর সাড়ে ২২ শতাংশ বহাল আছে। এ ধরনের কোম্পানির সব লেনদেন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে করলে করহার ২০ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে যেসব কোম্পানি ১০ শতাংশের কম পুঁজিবাজারে হস্তান্তর করবে, তাদের করহার ২৭ দশমিক ৫০ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ধরনের কোম্পানি সব লেনদেন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে করলে করহার দাঁড়াবে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে, ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করপোরেট কর ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে লভ্যাংশ উৎসে কর বাতিল করা হয়। এ নিয়ে শেয়ারবাজারে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাঝে তীব্র সমালোচনা হয়। শেয়ারবাজারের স্বার্থে আগের মতোই কোম্পানি ও ব্যক্তি করদাতার লভ্যাংশ কর আগের মতোই যথাক্রমে ২০ ও ১০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে সরকার ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য এ শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য সাড়ে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সর্বনিম্ন করহার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে রেয়াতের সীমা কমানো এবং সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ, এফডিআর-এর সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায়ের বদলে অগ্রিম কর হিসাবে গণ্য করায় করদাতাদের ওপর করের বোঝা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স ১৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ রিটার্নে উল্লিখিত স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকার বিক্রি থেকে আয় দেখালে তা মূলধনি আয় হিসাবে গণ্য করা হবে।

কালের কণ্ঠ

‘সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পথে বাংলাদেশ ব্যাংক’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে না আসায় নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতেও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারও সংকোচনমূলক নীতির ধারা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত মিলেছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন মুদ্রানীতির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এবারের মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে বড় বাজেট, প্রণোদনা কর্মসূচি, তারল্য সহায়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার কার্যক্রম অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার আগের অবস্থানেই রাখা হতে পারে। কারণ সম্প্রসারণমূলক পদক্ষেপ নিলে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকার গড় মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৭১ শতাংশ। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকায়ই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি থাকায় এর চাপ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই বিস্তৃত হয়েছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘তিস্তা যে কোনো মূল্যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একে জাতীয় অগ্রাধিকার আখ্যা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যে কোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান বলেন, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।

সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও এর আগে বক্তৃতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে সমর্থন করার কথা জানান। আওয়ামী লীগ আমলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীন আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ভারত যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখালে প্রকল্পটি ঝুলে যায়। চীন সমীক্ষাও করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটিতে জলাধার যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ১৯ মে এই সিদ্ধান্ত হয়। চলতি সপ্তাহে সরকারপ্রধানের চীন সফরে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে তিস্তা প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত শুরু করতে একমত হয়েছে। গত রোববার সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, চলতি বছরেই এই কাজ শুরু হবে।

গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্য হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে। এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না। এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ইত্তেফাক

‘নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকেই মিলবে পুরো মূল বেতন’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে। দীর্ঘ ১১ বছর পর এই বেতনকাঠামো কার্যকরের মধ্য দিয়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি পে কমিশনের সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রোড ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই রোড ম্যাপটি চলতি সপ্তাহেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে অর্থ বিভাগ।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনার চিন্তা থাকলেও, কারিগরি জটিলতা এড়াতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। সরকারি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা আইবিএএসপ্লাস-এ কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না করতে একবারেই মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার যৌক্তিকতা দেখিয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন করার দিকেই এখন মনোযোগী কমিটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের ১০০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের বা ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা বিবেচনায় রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাজেটে এই কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত ঘোষণা দেননি, তবে কর্মকর্তাদের মতে, এই ৪৪ হাজার কোটি টাকা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের জন্য ব্যয় করা হবে। নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থের সংস্থান করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় ধরনের বৃদ্ধির পাশাপাশি আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সংসদে অর্থবিল পাস’। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ২০২৬ সালের অর্থবিলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে তা পাস করা হয়েছে। সংশোধনীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা প্রস্তাবিত তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণ। একই সাথে ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব, জমি-ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন ও নামজারিতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার বিধান এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত আলোচিত-সমালোচিত প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়। এর আগে বাজেটের ওপর আলোচনায় বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা আরো বাড়ানোসহ কয়েকটি প্রস্তাবে সংশোধনী আনার নির্দেশনা দেন। পরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশোধনী উত্থাপন করলে তা সংসদে গৃহীত হয়।

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা হবে চার লাখ টাকা। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে পাঁচ লাখ টাকা করা হবে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথম দুই অর্থবছরের জন্য যথাক্রমে তিন লাখ ৭৫ হাজার ও চার লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ের জন্য চার লাখ ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্যে জমি নিবন্ধনের কারণে করদাতাদের জটিলতা দূর করতে বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত বিশেষ বিধান আনা হয়েছিল। তবে এটি কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, এমন সমালোচনা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় সরকার জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুরো প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করেছে।

একই সাথে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব এবং সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি-ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন ও নামজারির জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করার বিধানও প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আগের মতো টিআইএন ছাড়াই ব্যাংক হিসাব খোলা এবং এসব নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।

অর্থবিলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা সম্প্রসারণ করে ব্যবসা, কৃষি, অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয় এবং বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

ডিজিটাল অর্থপ্রদানকে উৎসাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এতে বিদেশে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান কমবে এবং কর পরিপালন বাড়বে।

স্বর্ণ, প্লাটিনাম ও হীরার অলঙ্কারের ওপর ভ্যাট দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার অলঙ্কারের ওপর ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে এসব অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে ৫০ পয়সা হারে উৎসে কর কাটার বিধান যুক্ত হয়েছে।

মাছ সরবরাহকারী পর্যায়ে সব ধরনের মাছের ওপর ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাথে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

দেশ রূপান্তর

‘প্রভাব’ ঠেকাতে পুলিশে শুদ্ধি অভিযান-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আলোচিত সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও ডিবি হারুনের মতো কতিপয় কর্মকর্তার কারণে বিগত সময়ে ভাবমূর্তি তলানিতে গিয়ে ঠেকে বাংলাদেশ পুলিশের। তাদের তান্ডবে তটস্থ ছিল পুরো বাহিনীও। দুর্নীতি থেকে শুরু করে গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর সব অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এদের প্রায় সবাই চাকরি থেকে বরখাস্ত হন, অনেকে গ্রেপ্তার হন এবং অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। বর্তমানে কেউ যেন বেনজীর বা হারুন হয়ে উঠতে না পারে এবং কোনো কর্মকর্তা দল কিংবা আত্মীয়তার নাম ভাঙিয়ে আগের মতো একক ‘প্রভাব’ বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য পুলিশে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে বিএনপি সরকার। এরই মধ্যে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে এই অভিযান।

এরই মধ্যে পুলিশের সার্বিক বিষয় নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলে বিশদ আলোচনা হয়েছে। অতি উৎসাহী দলবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তালিকা করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি যারা সরকার ও পুলিশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে, তাদের নিয়েও তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া লোভনীয় পদে যেসব পুলিশ সদস্য তদবির করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে ’খারাপ স্থানে বদলি’ করতে বলা হয়েছে বলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে। এদিকে গত রবিবার পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং ১৬ কর্মকর্তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, পুলিশ বাহিনী থেকে দলবাজি, তোষামোদি এবং চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চিরতরে নির্বাসিত করতে হবে। সৎ, যোগ্য এবং পেশাদার কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পুলিশ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও জনগণের বন্ধু হিসেবে নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ফিরে পাবে। আতঙ্ক কাটিয়ে পুলিশ আবার সাহসের সঙ্গে মাঠে নামুক এটাই হোক শুদ্ধি অভিযানের মূল লক্ষ্য।

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান জোরাল হচ্ছে। পুলিশে থেকে কোনো ধরনের অপরাধ করতে পারবে না। যারা এসব করবে, তাদের ’কঠিন শাস্তি’ পেতেই হবে। পুলিশ রাজনীতির বাহিরে থেকেই দায়িত্ব পালন করছে।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের অভ্যন্তরে একটি ব্যাপক ‘শুদ্ধি ও সংস্কার’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সাধারণ ও পেশাদার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সুবিধাভোগী চক্রের ভেতর ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর, সাময়িক বরখাস্ত এবং ফৌজদারি মামলার ভয়ে তটস্থ অনেকেই এখন রীতিমতো আত্মগোপনে বা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এ ছাড়া আসামি ধরা বা তদন্তের অর্থ কামাচ্ছেন অসাধু পুলিশ সদস্যরা। বিষয়টি সরকারের উচ্চমহলেরও নজরে এসেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান পুলিশ লীগের ক্যাডাররা। বিএনপি সরকার পুলিশের ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা করছে এবং পুলিশে নতুন করে কোনো একক ব্যক্তির প্রভাব-বলয় যেন তৈরি হতে না পারে, সেজন্য এই শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশের সবগুলো ইউনিটের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তারাও যেন বেপরোয়া না হতে পারেন, কিংবা ‘পুলিশ দল’ গড়তে না পারেন এসব বিবেচনায় নিয়ে এই শুদ্ধি অভিযান হচ্ছে।

মিথ্যা মামলার তদন্ত হচ্ছে: ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের সময় দুই শতাধিক মামলা হয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর আসামি করা হয়েছিল এক লাখের বেশি। এই নিয়ে অনেক সমালোচনাও আছে। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার নিয়ে সহিংসতায় ৮শ’র মতো মানুষ মারা গেছে। এ সময় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীও মারা যান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের স্বজনসহ বাইরের লোকজন মামলা করেছেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতা থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়। আবার এসব মামলায় ব্যবসায়ী ও নিরীহ লোকজনকে আসামি করা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টি নিয়ে এখনো সমালোচনা হচ্ছে। এসব মামলার পেছনে একশ্রেণির প্রতারকচক্র সক্রিয় আছে। তাদের নিয়ে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য সদস্য আসামি ধরা ও মামলা-বাণিজ্য করেছেন দেদারসে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছে। নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারাও নড়েচড়ে বসেছেন। মিথ্যা মামলাগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে শ’খানেক মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বলয় থেকে বের করতে হবে: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশকে আগে রাজনৈতিক বলয় থেকে বের করতে হবে। আমি চেষ্টা করেও পারিনি। পুলিশ সংস্কারের সুপারিশগুলো আমলে নিলে বাহিনীর জন্যই ভালো হতো। পুলিশে নিয়মিত শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। তদবিরের কালচার চিরতরে বন্ধ করতে হবে। পুলিশের প্রতিটি কাজে জবাবদিহি আনতে হবে। রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার না হলে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই।

অভিযুক্তদের মধ্যে দুশ্চিন্তা: পুলিশ সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ সদর দপ্তর এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের গ্রিন সিগন্যালের আসায় ‘শুদ্ধি অভিযান’ মাঠপর্যায়ের কনস্টেবল থেকে শুরু করে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। বিগত বছরগুলোয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ‘দলবাজি’, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ‘চাঁদাবাজির’ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, তারা আছেন বেশি দুশ্চিন্তায়। নতুন সরকার আসার পরও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বেশির ভাগ কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি ও ভালো পদে চলে যাচ্ছেন। অভিযোগ আছে, কেউ কেউ মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে পদোন্নতির পাশাপাশি পছন্দের স্থানে বদলি হচ্ছেন। এই নিয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ।

নিরপেক্ষতার আড়ালে নির্যাতনের অভিযোগ: পুলিশ নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ থেমে নেই। গত নভেম্বরে নেত্রকোনা সদর থানায় রিমান্ডে থাকা এক আসামিকে হাত-পা-চোখ বেঁধে থানার কোয়ার্টারে ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় মানবাধিবার সংগঠন আসক জানিয়েছে, এটা হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (নিবারণ) আইনের লঙ্ঘন। গেল ডিসেম্বরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানাতেও পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নির্যাতন, আটক করে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো অভিযোগের মাত্রা বেড়েই চলেছে। ঘটনার প্রমাণ মিললে প্রত্যাহার, সাময়িক বরখাস্ত বা বদলিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘বাজেটে বড় পরিবর্তন’। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণের পর কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখার প্রস্তাব বাতিল করে জাতীয় সংসদে গতকাল কণ্ঠভোটে অর্থবিল-২০২৬ পাস করা হয়েছে। ১১ জুন উত্থাপন করা বাজেট ২০২৬-২৭ এর (অর্থবিল) আরও অনেক প্রস্তাব ও এ আইনের ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূক না করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা শিথিলের প্রস্তাব, ব্যক্তি পর্যায়ের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করাসহ আরও বেশ কিছু সংশোধনী এনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। অর্থবিলের ওপর সমাপনী বক্তব্যে এসব সংশোধনী আনতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর দেওয়া সব সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়। এরপর গতকাল বিকালে বিলটি পাসের জন্য অর্থমন্ত্রী উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। পাস হওয়া অর্থবিল-২০২৬ এ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের পাশাপাশি ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্যতামূলকভাবে লাগবে না টিআইএন। সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত এবং রপ্তানি ও প্রবাস আয়ে অগ্রগতি সাধন এবং মানুষের উৎপাদনশীল সক্ষমতার ওপর ভর করে আমরা অর্থনীতিকে এগিয়ে নেব। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট আলোচনার সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক ব্যয়ের এই বাজেট সংসদে আজ পাস হবে। এরপর তা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচার করা অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে অনেক জমি প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্যে নিবন্ধিত হওয়ায় করদাতাদের জটিলতা থেকে রক্ষা করতেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার এটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আরও দুটি প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এগুলো হলো- বেশির ভাগ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং বণ্টন দলিল (পার্টিশান ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব। অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। এর ফলে ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত থাকবে।

নিউ এজ

নিউ এজের শিরোনাম ‘Shikha Anirban goes out’ অর্থাৎ ‘শিখা অনির্বাণ বন্ধ’। খবরে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অদম্য সাহস ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘শিখা অনির্বাণ-এর শিখাটি জ্বালানো বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের মিতব্যয়িতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত দোসরা মে থেকে এটি মূলত বন্ধ রাখা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এই প্রতীকী শিখাটি নিভিয়ে রাখার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) নিউ এজকে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু মিতব্যয়িতা ও জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এসব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত দোসরা মে থেকে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণ আর অবিরাম জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন