চলমান বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিলো প্যারাগুয়ে। টাইব্রেকার ভাগ্যে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার দলটি।
নির্ধারিত সময়ে জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ এবং প্যারাগুয়ের হয়ে হুলিও এনসিসো গোল করার পর ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে প্রথম শট নিতে এসেই খলনায়ক বনে যান জার্মানির গোলদাতা কাই হাভার্টজ। তার নেয়া প্রথম শটটি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন প্যারাগুয়ে কিপার অরল্যান্ডো গিল। অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের মাউরিসিও গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।
এরপর জার্মানির কিমিচ ও মুসিয়ালা এবং প্যারাগুয়ের গোমেজ ও গালার্জা নিজ নিজ শটে গোল করলে লড়াই জমে ওঠে। কিন্তু জার্মানির চতুর্থ শট নিতে আসা নিক ভোল্টমেডের শট আবারও ঠেকিয়ে দিয়ে প্যারাগুয়েকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন ম্যাচ হিরো গিল।
নাটকের তখনও বাকি ছিল! প্যারাগুয়ের শটটি অ্যান্তোনিও সানাব্রিয়া মিস করলে এবং জার্মানির আমিরি গোল করলে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। এরপর প্যারাগুয়ের ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনার শট ম্যানুয়েল নয়ার ঠেকিয়ে দিলে জার্মানির সামনে সুযোগ আসে। কিন্তু সাডেন ডেথে জার্মানির ডিফেন্ডার জোনাথন টা তার শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।
শেষমেশ প্যারাগুয়ের জোসে ক্যানালে কোনো ভুল করেননি। ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে ৪-৩ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় এনে দেন প্যারাগুয়েকে। পুরো ম্যাচে ৭৩ শতাংশ বল পজেশন ধরে রেখেও, বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর এই মঞ্চ থেকেই বিদায় নিতে হলো জার্মানিকে।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিট: জার্মানি ১-১ প্যারাগুয়ে
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় চরম নাটকীয়তার সাক্ষী হলো জিলেট স্টেডিয়াম। ১০২ মিনিটে কর্নার থেকে জোনাথন টা’র দুর্দান্ত হেডে জার্মানি উল্লাসে মেতে উঠলেও, ভিএআর গোলটি বাতিল করে দেয়। গোলকিপার অরল্যান্ডো গিলকে আন্টন বাধা দেয়ায় ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। ১০৫ মিনিটে আরও একটি নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় জার্মানি। হাভার্টজের লুপড হেডার গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন গিল।
অতিরিক্ত সময়ের শেষার্ধেও আক্রমণে ধার বজায় রাখে জার্মানি। ১১৯ মিনিটে আন্টনের ক্লোজ-রেঞ্জ হেড একদম গোললাইনে প্রতিহত করেন প্যারাগুয়ে কিপার। এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ বল পজেশন ও ২১টি শট নিয়েও প্যারাগুয়ের জমাট ডিফেন্স আর গোলকিপার গিলের অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্স ভাঙতে পারেনি ইউলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
১-১ সমতায় ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ায় পেনাল্টি শুটআউটে নির্ধারণ হবে কোন দল যাচ্ছে শেষ ১৬-তে।
৯০ মিনিট: জার্মানি ১-১ প্যারাগুয়ে
পুরো ৯০ মিনিটের খেলায় ফলাফল আসলো না। মাঠে গড়াবে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা। নকআউটের তৃতীয় ম্যাচে অতিরিক্ত সময় দেখলো ফুটবল বিশ্ব।
শেষ পর্যন্ত তাতেও ম্যাচের ফলাফল না পাওয়া গেলে শুরু হবে টাইব্রেকার।
৫৪ মিনিট: জার্মানি ১-১ প্যারাগুয়ে
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্যারাগুয়ের ইস্পাতকঠিন ডিফেন্স ভাঙতে সক্ষম হলো জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের এক জাদুকরি পাস থেকে কাই হাভার্টজের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফিরিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
হাফটাইম: জার্মানি ০-১ প্যারাগুয়ে
ম্যাচের প্রথম হাফের গল্পটা একপেশে আক্রমণের বনাম ইস্পাতকঠিন রক্ষণের। ৭৯ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখে প্যারাগুয়েকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল জার্মানি। কিন্তু প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে খেলার ধারার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে গোল আদায় করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। হুলিও এনসিসোর দুর্দান্ত হেডে প্রথমার্ধ শেষে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে আছে লাতিন আমেরিকার দলটি।
জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজেশন ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজাচ্ছিল জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজ এবং কাই হাভার্টজদের সামলাতে প্রথমার্ধের পুরোটা সময় নিজেদের বক্সের সামনে রক্ষণাত্মক দেয়াল তুলে রাখে প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধে জার্মানি যেখানে ৩৪২টি পাস খেলেছে, সেখানে প্যারাগুয়ে মাত্র ৯৩টি পাস দিয়ে শুধু রক্ষণ সামলানোতেই মনোযোগ দেয়।
তবে ৪২ মিনিটে আসে ম্যাচের সেই নাটকীয় মুহূর্ত। ডান প্রান্ত থেকে মিগুয়েল অ্যালমিরোনের পাস থেকে বল পান গালার্জা। তার মাপা ফ্ল্যাট ক্রস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে যান হুলিও এনসিসো। নিখুঁত টাইমিংয়ে এক দুর্দান্ত হেডে জার্মানির জাল কাঁপান এই প্যারাগুয়েন ফরোয়ার্ড। ম্যানুয়েল নয়ারের পক্ষে সেই শট ঠেকানো সম্ভব ছিল না।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে (৪৫+৪) সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগও পেয়ে যায় তারা। তবে কর্নার থেকে পাওয়া বলে জশুয়া কিমিচের ক্লোজ-রেঞ্জ শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে গেল প্যারাগুয়ে।
