হালান্দের ‘বিশ্রাম’ কাজে দেবে তো?

আইভরি কোস্টের মুখোমুখি নরওয়ে

হালান্দের ‘বিশ্রাম’ কাজে দেবে তো?

ফন্ট সাইজ:

আরলিং হালান্দ খেললে কি ফ্রান্সকে হারাতে পারতো নরওয়ে? হালান্দ নিজেও তো গোল পেতে পারতেন। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্রামে থাকা এই স্ট্রাইকারের উপলব্ধি, তিনি খেললেও ফল ভিন্ন কিছু হতো না। সে যাই হোক। হালান্দ, মার্টিন ওডেগার্ডসহ ১০ জনকে বিশ্রাম দিয়ে নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাকেন যে বাজিটা ধরলেন, তার প্রথম ফল মিলবে আজ। ডালাসে রাত ১১টায় শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বোঝা যাবে, সেই সাহসী সিদ্ধান্ত কতটা দূরদর্শী ছিল। নরওয়ের প্রাথমিক লক্ষ্য ২৮ বছর পর আবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফেরা। অন্যদিকে, আইভরি কোস্ট এবারই নকআউটে খেলছে।

কখনো নরওয়ের মুখোমুখি হয়নি আইভরি কোস্ট। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান প্রতিপক্ষ অবশ্য তাদের একেবারে অচেনা নয়। এখন পর্যন্ত শুধু সুইডেনের মুখোমুখি হয়েছে তিনবার, যেখানে দুটি জয় ও একটি হার। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই প্রথমবারের মতো নরওয়ের চ্যালেঞ্জ নিতে নামছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আর আইভরি কোস্ট কোচ এমার্স ফায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠাই তাদের শেষ লক্ষ্য নয়। ইতিহাস গড়ার যাত্রা আরও দীর্ঘ করতে চান তিনি। আইভরি কোস্টের সবচেয়ে বড় শক্তি ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ড, দ্রুতগতির দুই উইঙ্গার এবং শারীরিক সক্ষমতা। কাজেই নরওয়ের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে ডালাসে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-১ গোলের হার নিয়ে বেশ সমালোচনা শুনতে হয়েছে নরওয়ে কোচ সোলবাকেনকে। তবুও নিজ সিদ্ধান্ত থেকে একচুল নড়েননি। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমি শতভাগ এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করি।’ সমর্থকদের হতাশার কথা স্বীকার করলেও সোলবাক্কেনের যুক্তি- এক ম্যাচ নয়, পুরো টুর্নামেন্ট নিয়েই ভাবতে হবে। হালান্দ খেলতে গিয়ে চোট পেলে সেটিই হতো সবচেয়ে বড় ভুল। তাই নকআউটের আগে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের সতেজ রাখাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। আর আইভরি কোস্টকে পেয়ে একদিক থেকে বরং ভালোই হলো। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে নরওয়েকে খেলতে হতো সুইডেনের সঙ্গে। সুইডেন নরওয়ের কাছে শুধু প্রতিপক্ষ নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীও। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ডার্বির বাড়তি আবেগ ও চাপের বদলে বিশ্রাম পাওয়া দল নিয়ে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়াকেই হয়তো বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন নরওয়ে কোচ। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বিশ্লেষণও বলছে, ৪৮ দলের এই দীর্ঘ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় সম্পদ সতেজ শরীর। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে টানা ব্যস্ত মৌসুম পার করা হালান্দ এবং দীর্ঘ মৌসুম শেষে বিশ্বকাপে আসা ওডেগার্ডের বিশ্রাম নকআউটে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

ম্যাচটি ১২০ মিনিটে গড়ালে পেনাল্টিও হয়ে উঠতে পারে বড় নিয়ামক। সে কারণেই অনুশীলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই বিভাগে। ফ্রান্সের বিপক্ষে জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনের মিস করা পেনাল্টি নরওয়ের চোখ খুলে দেয়। সোলবাক্কেন জানিয়েছেন, শুধু শুরুর একাদশ নয়, অতিরিক্ত সময়ে বদলি হিসেবে নামতে পারেন এমন খেলোয়াড়দের নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা আছে তার। দলের পেনাল্টি গবেষক গেইর ইয়র্দেতের দাবি, ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আগেই লারসেনের শট নেওয়ার ধরন জেনে রেখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আরও নিখুঁত প্রস্তুতি নিচ্ছে নরওয়ে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন