হৃদয় ভাঙলো জাপানের

হৃদয় ভাঙলো জাপানের

ফন্ট সাইজ:

হৃদয় ভাঙলো জাপানের। টিকে রইলো ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ ষোল রাউন্ডে পা রাখলো সেলেসাওরা। গতকাল শেষ-৩২ পর্বের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারায় ব্রাজিল। অন্যদিকে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ভড়কে দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো এশিয়ার দলটি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচ তখন অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ানোর অপেক্ষায়। তবে যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে জাপানিরা ভুল করে বসলো। বিশ্বকাপ যে বড় কঠিন মঞ্চÑ জয়সূচক গোল আদায় করে জাপানিদের সেই শিক্ষাই দিলো ব্রাজিলিয়ানরা। এবারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এশিয়ার ভূখণ্ডের একমাত্র দল ছিল জাপান। যদিও এশিয়ার হয়ে খেলা অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ আছে এখনও।
ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ নিয়ে কথা হচ্ছিল অনেক। গত অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ নেয় জাপান। সেলেসাওদের ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। আর জাপানকে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দিতে চাইছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। ম্যাচের আগে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘শান্ত থাকুন।’ ম্যাচের শুরু থেকে বল পজিশন ধরে রেখে ভালো ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন আনচেলোত্তির শিষ্যরাও।
তবে সবাইকে চমকে লিড নেয় জাপান। ১০ মিনিটে লুকাস পাকেতার ফ্রি-কিক ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি জাপানি গোলকিপার জিওন সুজুকি, বল হাত থেকে ফসকে যায়। তবে দ্রুতই নিজের ভুল শুধরে আলগা বলটি গ্লাভসবন্দি করেন সুজুকি। ১৫তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে জুনিয়া ইতোর পেছন থেকে স্লাইডিং ট্যাকল করে বসেন কাসেমিরো। রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে কাসেমিরোকে হলুদ কার্ড দেখান। কামাদার নেয়া ফ্রি-কিক ব্রাজিলের রক্ষণ দেওয়ালে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। কর্নার পায় জাপান। জুনিয়া ইতোর ইন-সুইঙ্গিং কর্নারটি কাছের পোস্টে বিপজ্জনক হতে পারতো, তবে হেড করে বল ক্লিয়ার করেন কাসেমিরো। ২৯ মিনিটে একক নৈপুণ্যে চোখধাঁধানো গোল করেন কাইশু সানো। একে একে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বোকা বানিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিলেন এক দুর্দান্ত কোণাকুণি শট! বল ব্রাজিলের রক্ষণ ভেঙে আশ্রয় নিলো জালের বাঁ দিকের একদম নিচের কোণায়। ব্রাজিলের বিশ্বসেরা গোলকিপার আলিসন বেকার ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পেলেন না। জাপানের জার্সি গায়ে কাইশু সানোর প্রথম গোল এটি। এক গোলে পিছিয়েই বিরতিতে যায় ব্রাজিল। তখন পরিসংখ্যানও চোখ রাঙাচ্ছিল তাদের। বিশ্বকাপের নকআউটে আগে গোল হজম করা শেষ পাঁচ ম্যাচেই হার দেখেছিল ব্রাজিল। গেরো খুললো সেলেসাওরা। এমন ম্যাচে তাদের জয়ের স্মৃতি এক যুগের পুরনো। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আগে গোল খেয়েও শেষ পর্যন্ত জয় পায় ব্রাজিল। এছাড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরে বিদায় নেয় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ থাকা দলগুলোর বিপক্ষে। জাপানও এই মুহূর্তে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা বিশের ভেতরে আছে।
৪৬তম মিনিটে পাকেতার জায়গায় এদ্রিককে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। ধার বাড়ে ব্রাজিলের খেলায়। ৫২তম মিনিটে গ্রিমারেসের চেষ্টা ফিরিয়ে দেন জাপান গোলরক্ষক। পরে আবারও সুযোগ। এবারও গোললাইনের কাছাকাছি জায়গা থেকে কোনোভাবে ক্লিয়ার করে জাপানের ডিফেন্স। ৫৬ মিনিটে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। দুবার বাঁচার পর তৃতীয়বারে আর শেষ রক্ষা হয়নি জাপানের। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের ক্রসে দারুণ হেডে গোল আদায় করেন কাসেমিরো। দুই মিনিট পরই এগিয়ে যেতে পারতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ভিনিসিয়ুসের শট গোলরক্ষক সুজুকির হাতে লেগে পোস্টে প্রতিহত হয়। ৬৬তম মিনিটে দ্বিতীয় পরিবর্তন আনেন আনচেলোত্তি। কুনহার বদলে মাঠে নামেন মার্তেনেল্লি। এবং শেষ পর্যন্ত তিনিই জয়ের নায়ক। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে নিজেদের ডি বক্সের মাথায় ভুল পাস দিয়ে বসেন জাপানের এক ডিফেন্ডার। এ থেকে গিমারেইসের বাড়ানো বলে মার্তেনেল্লির শট পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২৪ বছর ধরে ‘হেক্সা’ জেতার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু কখনো কোয়ার্টার, কখনো সেমিতে থেমে যেতে হয় তাদের। এবার উজ্জ্বল নৈপুণ্য দেখিয়েই নকআউটে পা রাখে জাপান। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস, সুইডেনের মতো দলের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করে তারা। হিউস্টনে লড়াইয়ে নামার আগে জাপান কোচ হাজিমে মরিয়াসু বলেন, ‘গতবার আমরা ব্রাজিলকে দেখিয়েছি যে আমরা সহজ প্রতিপক্ষ নই। এটা আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং আমরা তাদের সম্মান করি। কিন্তু ম্যাচে কী হবে, কেউ জানে না। আমাদেরও জেতার সুযোগ থাকবে।’
গ্রুপের শেষ ম্যাচে ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন নেইমার। তার ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে। ইনজুরির কারণে দীর্ঘ তিন বছর ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। তবে গতকাল নেইমারকে নিয়ে বাজি ধরেননি গুরু আনচেলোত্তি।
ব্রাজিলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১২৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন নেইমার। সবচেয়ে বেশি ৯ গোল জাপানের বিপক্ষে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন