বিশ্বকাপের মেগা মঞ্চে এখন নকআউটের রোমাঞ্চকর যুদ্ধ। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে এখন ৩২ দলের বাঁচা-মরার কঠিন মহারণ, যেখানে একটি ভুল ডেকে আনবে বিদায়ের বেদনা। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ মনে করেন এখন আর ছোট-বড় দল নেই, কোনোভাবেই ভুল করা যাবে না। দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ে। ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে উন্মাদনা তুঙ্গে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর নরওয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে, অন্যদিকে আইভরি কোস্টের এটি প্রথম।
তপু বলেন, ‘আইভরি কোস্ট যেভাবে শেষ ৩২ দলে জায়গা করে নিয়েছে, সেজন্য তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে দলগত শক্তির হিসাব করলে নরওয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে। আমি নরওয়েকে শতভাগ এগিয়ে রাখবো কারণ তাদের দলে আর্লিং হালান্দ, মার্টিন ওডেগার্ড, সরলথ এবং নুসার মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে।’ প্রথম ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আজ রাত ১১ টায়।
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে নরওয়েকে বেশ সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন তপু। শারীরিকভাবে শক্তিশালী আফ্রিকান দলটিকে আটকানোই হবে আসল চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগ অনেক সক্রিয়, বিশেষ করে নিকোলাস পেপে গত ম্যাচে ২ গোল করে দারুণ ছন্দে আছেন। স্প্যানিশ লা লিগা ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার এই তারকাকে নরওয়ে রক্ষণের কড়া নজরে রাখতে হবে।’ নকআউটের এই ম্যাচে ডিফেন্স লাইনে কম ভুল করার ওপরেই জোর দিয়েছেন তপু। তাছাড়া হালান্দ গ্রুপ পর্বে ২ ম্যাচে ৪ গোল করে প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছেন।
একই দিনে রাত ৩ টায় হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও সুইডেন। ফরাসিদের জয়ের জোর সম্ভাবনা দেখছেন তপু। তবে সুইডেনের আক্রমণভাগকে হালকাভাবে না নেয়ার সতর্কবার্তা তপুর । তপু মনে করেন, ‘সুইডেনের ৩ ফরোয়ার্ড চমৎকার ফুটবল খেলছেন। বিশেষ করে আলেকজান্ডার ইসাক এবং আর্সেনালে খেলা ভিক্টর গিওকেরেসের ওপর ফ্রান্সকে বাড়তি নজর রাখতে হবে।’ গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ী ফ্রান্স দারুণ ফর্মে রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলে ইতিমধ্যে ৪টি করে গোল করেছেন। কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী আসর স্মরণীয় করতে ফরাসিরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেবে।
শেষ ম্যাচ মেক্সিকো বনাম ইকুয়েডর। এই দ্বৈরথটি ১লা জুলাই সকাল ৭ টায় অনুষ্ঠিত হবে। তপুর মতে, এটি একেবারে ৫০-৫০ শক্তির লড়াই। জার্মানিকে ২-১ গোলে কুপোকাত করে নকআউটে আসা ইকুয়েডর এখন যেকোনো পরাশক্তির জন্যই এক মূর্তিমান আতঙ্ক। অন্যদিকে মেক্সিকোও গ্রুপ পর্বে ৯ পয়েন্ট পেয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। তপু বলেন, ‘ম্যাচটি অত্যন্ত হাই- ভোল্টেজ এবং আক্রমণাত্মক হবে, মাঠে ফাউলও বেশি হতে পারে। তবে স্বাগতিক মেক্সিকোর ঘরের মাঠে খেলার কারণে কিছুটা বাড়তি সুবিধা থাকবে। ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে গ্যালারিভর্তি দর্শকের সমর্থন দীর্ঘ ৪০ বছরের গেরো কাটাতে সাহায্য করতে পারে।’
তপু পরিশেষে মন্তব্য করেন, ‘এই তিনটি ম্যাচের মধ্যে নরওয়ের ম্যাচে অঘটন ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে ফ্রান্সের ম্যাচ নিয়ে আমি নিশ্চিত, সেখানে ভয়ের কোনো কারণ দেখছি না।’
