‘অভিশাপ’ মোচনের মিশনে মেক্সিকোর সামনে ইকুয়েডর

‘অভিশাপ’ মোচনের মিশনে মেক্সিকোর সামনে ইকুয়েডর

ফন্ট সাইজ:

মাত্র তিনটি দল এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতেছে। মেক্সিকো তাদের একটি। দাপট দেখিয়েই সহ-আয়োজকরা পা রেখেছে নকআউটে। কিন্তু সঙ্গে ফিরে এসেছে এক পুরনো দুঃস্বপ্নÑ ‘পঞ্চম ম্যাচের অভিশাপ’। বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলেছে, পথও বদলেছে। কিন্তু বহু বছরের সেই আক্ষেপ এখনো অমোচনীয়। তাই ইকুয়েডরের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইটা কেবল নকআউটে বেঁচে থাকার নয়, বহুদিনের অভিশাপ খণ্ডনের প্রথম ধাপও। আজতেকার আইকনিক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে কাল সকাল ৭টায়। ম্যাচের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। ইকুয়েডর তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছে, ‘লোকালেস দোনদে সি’ অর্থাৎ ‘যেখানেই খেলি মাঠটা আমাদেরই।’ অথচ আজকেতাকে বলা হয় মেক্সিকোর দুর্গ। আর ইকুয়েডর সেই দুর্গ দখলেরই আভাস দিল। কমেন্টেও মেক্সিকানদের অভিশাপের কথা শুনিয়ে মনোবল ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করছেন ইকুয়েডর সমর্থকরা।

বিশ্বকাপে নিয়মিত সদস্য মেক্সিকো। কিন্তু কী এক অভিশাপে শেষ ষোলোতেই থেমে যেতে হচ্ছে তাদের। স্প্যানিশে যাকে বলা হয় ‘এল কুইন্তো পারদিতো।’ ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা সাতটি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড উঠে প্রতিবারই বিদায় নেয় মেক্সিকো। অর্থাৎ, বহুল কাক্সিক্ষত পঞ্চম ম্যাচটি (কোয়ার্টার ফাইনাল) আর খেলা হয়নি দলটির। নতুন ফরম্যাটে এই ‘পঞ্চম ম্যাচ’ হয়ে গেছে ‘ষষ্ঠ ম্যাচ’। তাই অনেকেই বলছেন, অভিশাপটি আসলে রূপ বদলেছে। কারণ, কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে মেক্সিকোকে এখন টানা দুটি নকআউট রাউন্ড জিততে হবে। যার প্রথমটি ইকুয়েডরের বিপক্ষে। জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কাটে দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিনিধিরা। মেক্সিকোর সঙ্গে তাদের দ্বৈরথ বেশ পুরনো। ট্রান্সফারমার্কেটের রেকর্ড অনুযায়ী সব প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত ২৫ বার মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। ১৪ জয় নিয়ে যোজন যোজন এগিয়ে মেক্সিকো। মাত্র চার ম্যাচ জিতেছে ইকুয়েডর। ড্র হয়েছে সাতটি। বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয়েছে তাদের। ২০০২ আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-১ গোলে হারায় এল ট্রিরা। তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচে জয় পায়নি মেক্সিকো। এক হারের সঙ্গে তাদের অর্জন তিন ড্র। আর মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগুইরে পা মাটিতেই রাখছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ধাপে ধাপে আগাতে হবে। আগামীকাল আমাদের সামনে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। অতীত নিয়ে ভাবছি না তাই। ভবিষ্যত নিয়েই ভাবনা আমাদের।’

ঘরের মাঠের দর্শকরা মেক্সিকোর বড় প্রেরণা। আর ইকুয়েডরকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে জার্মানির বিপক্ষে জয়টি। ইকুয়েডর কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে এই জয়কে ‘সবচয়ে বড় অর্জন’ বলে আখ্যায়িত করেন। তবে আর্জেন্টাইন এই কোচ দলকে বিনয়ী থাকার পরামর্শও দিয়েছেন।
দু’দলের খেলোয়াড়রাই ফিট রয়েছেন। নতুন কোনো ইনজুরি বা সাসপেনশন নেই। মেক্সিকোর ক্ষেত্রে একমাত্র প্রশ্ন উঠতে পারে আক্রমণভাগ নিয়ে। হাভিয়ের আগুইরে গ্রুপ পর্বে রাউল হিমেনেজ ও সান্তিয়াগো হিমেনেজকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলিয়েছেন। তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে সান্তিয়াগোর শুরুতে নামার সম্ভাবনাই বেশি। জার্মানির বিপক্ষে সফল ভ্যালেন্সিয়া-গনজালো প্লাতা জুটিতেই হয়তো ভরসা রাখবেন ইকুয়েডর কোচ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন