সিলেটের সংবাদপত্র অঙ্গনের প্রিয়মুখ ইসমাইল হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত শুক্রবার সকালে কানাডায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তার মৃত্যুতে সিলেটের সংবাদপত্র সংশ্লিষ্টদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কানাডার আলবার্টার এডমন্টন শহরে বসবাসকারী বড় ছেলে ইমরান হোসেন জানিয়েছেন- বৃহস্পতিবার অসুস্থতা বোধ করলে ইসমাইল হোসেনকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক নানা সমস্যা ধরা পড়ে।
বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০ টায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি জানান- বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোররাতে ও কানাডার স্থানীয় সময় বাদজুমা একটি মসজিদে জানাজার নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। হাজী ইসলাম হোসেন সিলেটের সংবাদপত্র বিপণন ব্যবসার অন্যতম এক ব্যক্তিত্ব। ইসমাইল হোসেন ছিলেন খবরের কাগজের অন্তঃপ্রাণ মানুষ। পত্রিকার বিপণন ও বিতরণে কেটেছে তার পুরো জীবন। ছিলেন সবার পরিচিত মুখ। দৈনিক বাংলাবাজার প্রকাশের পর এর বিপণনে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত হন।
দৈনিক মানবজমিন-এর সূচনা থেকে তিনি এর বিপণন ও বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সিলেট নগরের পৌর বিপণি মার্কেটের আলমগীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তিনি। দেশের বেশির ভাগ সংবাদপত্রের এজেন্ট হিসেবে সিলেটে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। এমনকি গ্রাহক পর্যায়েও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট সমিতির দীর্ঘ দিনের সহ-সভাপতি ছিলেন। নগরের কুমারপাড়া ঝেরঝেরি পাড়ায় আবাসিক এলাকায় তার বাসা। শুক্রবার বাদজুমা নগরের বিভিন্ন মসজিদে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেটের আদি মুসলমান গাজী বুরহান উদ্দিন দারুল হাদীস মাদ্রাসায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। মাদ্রাসার মুহতামিম শায়খ নাসির উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন- বুরহান উদ্দিন মাদ্রাসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন হাজী ইসমাইল হোসেন।
মানবজমিন পরিবারের শোক: ইসমাইল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী। এক শোক বার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। শোক বার্তায় তারা বলেন, ইসমাইল হোসেন ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ সংবাদপত্রসেবী। তিনি আজীবন খবরের কাগজের সঙ্গে ছিলেন। সিলেটে সংবাদপত্র বিপণন খাতে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দুই মন্ত্রীর শোক: সিলেটের প্রবীণ সংবাদপত্র এজেন্ট হাজী ইসমাইল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পৃথক শোক বার্তায় তারা বলেন- হাজী ইসমাইল হোসেন সিলেটে সংবাদপত্রের পাঠ্যাভ্যাস করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। তিনি সংবাদপত্র অঙ্গনের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে আজীবন কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে সিলেটের সংবাদপত্র বিপণন খাতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে সেটি কখনো পূরণ হবে না। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
