বৃটেনে বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কমিউনিটির নবীন -প্রবীণ নাগরিকরা। বৃহস্পতিবার লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি এনসিপি নেতা হাসনাত আবুল্লাহ ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম লন্ডনে সফর করলে তাঁদের কয়েকটি সভাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কর্তৃক সহিংস ঘটনা ঘটে। সভাকেন্দ্রের বাহিরে রাস্তায় মিছিল, অশ্রাব্য স্লোগান , ডিম নিক্ষেপের মত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলোতে সহিংসতা এড়াতে স্থানীয় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এমন ঘটনায় বৃটিশ সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটি হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে বলে মনে করেন কমিউনিটির অরাজনৈতিক (বাংলাদেশি রাজনীতির সাথে জড়িত নন ) নাগরিকরা। বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি রাজনীতিকে কেন্দ্র করে বার বার এমন সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান আয়োজকরা। সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিটি নেতারা বলেন,
রাজনীতি মানে রাজার নীতি। কিন্তু আমরা রাজনীতির নামে নোংরা নীতি চর্চা করছি। এটাকে রাজনীতি বলা যায় না। ব্রিটেনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আপনার যুক্তির আলোকে একজনের মতপার্থক্যকে স্বীকৃতি দিতে হবে। মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু বর্তমানে দেখা যায়—যুক্তির পরিবর্তে অনেকেই নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেন, যা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।
আয়োজকরা বলেন, গত ১৫ই জুন পূর্ব লন্ডনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। বিশৃঙ্খলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা, হুমকি কিংবা কমিউনিটিতে বিভাজন সৃষ্টি করার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এ ধরনের আচরণ ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের অর্জন ও মূল্যবোধের পরিপন্থী।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমাদের কমিউনিটি কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা, ব্যবসা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের কারণে সেই অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্ব দেন, আবজল মিয়া,আব্দুল শুকুর খালিসদার,জাকির খান , ব্যারিস্টার আতাউর রহমান ও সিরাজ মিয়া প্রমুখ।
