বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখনো গ্যালারিতে দেখা যায়নি। স্বাগতিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সাধারণত উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে উপস্থিত থাকেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্র দল নকআউট পর্বে উঠলেও ট্রাম্পের এই অনুপস্থিতি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা এবং ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পর এই দূরত্ব সবাইকে অবাক করেছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ট্রাম্প বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের চেয়ে তার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের লনে ইউএফসি ইভেন্টকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফেদেরিকো দে জেসুস মনে করেন, এই আচরণ ট্রাম্পের চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তিনি বলেন, 'ইউএফসি এমন একটি খেলা যা ট্রাম্প নিজে লালন করেছেন এবং এর সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সুপার বোলের মতো বড় ইভেন্টে যান, সাধারণ ম্যাচের ডেটিংয়ে যান না। ফাইনাল ম্যাচেই আসল রেটিং থাকবে, সেখানেই তাকে আশা করুন।'
মাঠে না যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি মাসে নিউ ইয়র্কে এনবিএ ফাইনাল দেখতে গিয়ে ট্রাম্প দর্শকদের দুয়োধ্বনি শোনেন। ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত লস অ্যাঞ্জেলেস বা সিয়াটলের মতো ভেন্যুগুলোতে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকে এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এড়াতে তার কর্মীরা সতর্ক থাকতে পারেন।
অবশ্য ট্রাম্পের ব্যস্ত সূচিও একটি বড় কারণ। উদ্বোধনী ম্যাচের সময় তিনি ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন এবং ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, 'আমার বস মানুষকে অপেক্ষায় রাখতে পছন্দ করেন। তাই চোখ রাখুন, নিশ্চিতভাবেই কিছু চমক দেখা যাবে।'
ফিফা জানিয়েছে, আগামী ১৯শে জুলাই নিউ জার্সিতে ফাইনাল ম্যাচে ট্রাম্পের ট্রফি তুলে দেয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, ট্রাম্প নিজে মাঠে না গেলেও নিয়মিত দলের খোঁজ নিচ্ছেন। ম্যাচের আগে তিনি ফুটবলারদের ফোনও করেছেন। এছাড়া হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিয়মিত অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গ্যালারিতে উপস্থিত থাকছেন। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উপস্থিত হলেই ফিফা সন্তুষ্ট থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
