ডিপ্লোমাধারী ডেন্টিস্টরা রোগী দেখে ওষুধে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না: আপিল বিভাগ

ডিপ্লোমাধারী ডেন্টিস্টরা রোগী দেখে ওষুধে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না: আপিল বিভাগ

ফন্ট সাইজ:

ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ডিগ্রিধারীদের স্বাধীনভাবে রোগী দেখে ঔষুধের ব্যবস্থাপত্র প্রদানের ক্ষমতা দিতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পৃথক বা স্বাধীনভাবে প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তা পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল। বুধবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা সিভিল আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

এদিন মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল পক্ষে উচ্চ আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল আলম। ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আনোয়ার হোসেন। এছাড়া রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী সৈয়দা নাসরীন।

রায়ের পর ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ আপিল বিভাগে ডেন্টাল চিকিৎসক ও বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) পক্ষে দায়ের করা সিভিল আপিল শুনানি শেষে মঞ্জুর করে রায় দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। এর ফলে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পৃথক বা নিজস্ব প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল। তিনি আরও বলেন, আদালতের আজকের সিদ্ধান্তের পর থেকে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা আর কোনো পৃথক প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। কোনো নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখাে এবং ওষুধের ব্যবস্থাপত্রও প্রদান করতে পারবেন না। তারা কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে ‘সহকারী হিসেবে’ কাজ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজিদের (ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) রোগী দেখা এবং ওষুধের ব্যবস্থাপত্র প্রদানের ক্ষমতা দেয়া এবং নিবন্ধনের প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ডিগ্রিধারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের পক্ষে এর সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন ২০২৬ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৩ই জুন এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এবং বিচারপতি এ. কে. এম শহীদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজিদের (ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) রোগী দেখা ও ওষুধের ব্যবস্থাপত্র প্রদানের ক্ষমতা দিতে বিএমডিসিকে নিবন্ধন প্রদান করাসহ ১০ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। পরে ২০১৭ সালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল সিভিল আপিল দায়ের করে এবং ওই মামলায় পক্ষভুক্ত হয় ডেন্টাল চিকিৎসকেরা। আজ চূড়ান্ত শুনানি শেষে সিভিল আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন