দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, অতীতে শুধু বাজেটের আকার বাড়ানো হলেও তা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ কারণে এসএমই খাতকে কেন্দ্র করে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
বুধবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই ফাউন্ডেশন) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে বাজেটের আকার ক্রমাগত বাড়ানো হলেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। এমনকি মনগড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাবও প্রকাশ করা হতো। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩৪ শতাংশ, যেখানে ভারতে এ হার ৪৫ শতাংশ এবং জাপানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। এ কারণে নতুন বাজেটে এসএমই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ১৫টি চিনিকলের মধ্যে বর্তমানে ৯টি চালু এবং ৬টি বন্ধ রয়েছে। কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লাভে থাকলেও তা মূলত তাদের ডিস্টিলারি ইউনিটের কারণে। ৬০ থেকে ৭০ বছর আগে স্থাপিত এসব কারখানা বর্তমান বাস্তবতায় আগের মতো কার্যকর নয়।
আখ চাষের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি আখের ফসল ঘরে তুলতে প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে। অথচ সেই আখ দিয়ে মিল চালানো যায় মাত্র তিন মাস। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় কারখানা অলস পড়ে থাকে, যা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়।
চিনিশিল্পকে লাভজনক করতে সুগার বিট চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিট চাষে মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে। একই জমিতে বাকি সময়ে অন্য ফসলও উৎপাদন করা সম্ভব। এ কারণে কয়েকটি চিনিকলকে ধাপে ধাপে বিট সুগার মিলে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিতে শিল্পপার্ক গড়ে তুলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন তিনটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কারখানার উন্নয়নে ইতোমধ্যে রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য জ্বালানি ও অন্যান্য সুবিধাসহ আকর্ষণীয় প্যাকেজ প্রণয়ন করা হবে, যাতে নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়।
সার কারখানার প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারি সার কারখানাগুলো লাভজনক হলেও গ্যাস সংকটের কারণে বছরের অনেক সময় বন্ধ রাখতে হয়। ফলে বিদেশ থেকে ডলার ব্যয় করে সার আমদানি করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে শুধু সার কারখানাগুলোর জন্য পৃথক গ্যাস নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সারা বছর উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
