বৃটেনে কমপক্ষে দু’জন জ্যেষ্ঠ লেবার এমপি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ না দিতে দলীয় নেতৃত্বের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয় বিবেচনা করছেন। তারা হলেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস ও কিয়ের স্টারমারের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনস। আল কার্নস জানিয়েছেন, তিনি প্রার্থী হবেন কি না তা নিয়ে ভাবছেন। অন্যদিকে ড্যারেন জোনসও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এমনটা খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। সোমবার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পর লেবার এমপিদের মধ্যে ক্রমেই এই ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, নতুন নেতা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ১৭ জুলাইয়ের মধ্যেই বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হয়ে যেতে পারেন। তবে দলটির একটি বড় অংশ এমন একজন নেতাকে নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে, যার নীতিগত ধারণাগুলো নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচাই করা হয়নি। কিছু এমপি স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যারেন জোনসকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। যদিও এ সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে, তবে জোনস এটিকে একেবারে নাকচ করেননি বলে জানা গেছে।
আল কার্নস চলতি মাসের শুরুতে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে মতবিরোধের কারণে সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রীর পদ ত্যাগ করেন। তিনিও শীর্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার রাতে আইটিভির পেস্টন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনোভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমি এখনও প্রস্তুত নই। তিনি আরও বলেন, আমাদের এমন রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, যা কেবল কৌশল নিয়ে কথা বলে। আমাদের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমি মূলত দেখতে চাই, ২০২৯ এবং ২০৩৪/৩৫ সালের মধ্যে আমরা কী বড় লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।
স্টারমার জানিয়েছেন, তাকে উত্তরসূরি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে লেবার পার্টির পরিচালনা পর্ষদকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শুরুর আগে ১৬ জুলাই তা শেষ হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওই সময়ের মধ্যে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। গত সপ্তাহে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে রিফর্ম ইউকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে বার্নহ্যামকে অনেকেই সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে হাউস অব কমন্সে এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। ওয়েস স্ট্রিটিংকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্ট্রিটিং দ্রুতই বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন, যা তাকে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতা নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাগবির লেবার এমপি জন স্লিঙ্গার দলের ভেতরে অনেকের মনোভাব তুলে ধরে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজনীয়। সোমবার বিবিসির দ্য ওয়ার্ল্ড টুনাইট অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি মনে করি, দেশের মানুষ ভাববে যে আমরা বোধহয় বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি, যদি দেশের সর্বোচ্চ পদে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে না নিয়ে যাই।
স্টারমারকে ‘ভয়াবহ প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক লেবার পার্টির নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, লেবার এমপিরা কেবল আরও বেশি কর আরোপ করে আরও বেশি ভাতা বিতরণ করতে চায়। এগুলোই লেবারের সিদ্ধান্ত এবং মূল্যবোধ, দলটির নেতৃত্বে যে-ই থাকুক না কেন। লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা স্যার এড ডেভি বলেন, বৃটিশ জনগণ প্রধানমন্ত্রীদের অবিরাম পালাবদলে এবং বাস্তবে কিছুই পরিবর্তন না হওয়ায় ক্লান্ত। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, লেবার যদি মনে করে আরেকজন পেশাদার রাজনীতিককে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে বসিয়ে দিতে পারবে, তাহলে তারা ভুল করছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি বলেন, মানুষ আশা করবে বার্নহ্যাম অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারবেন। তবে এ বিষয়ে রায় এখনও হয়নি।
নিজের নীতিগত অবস্থানের অস্পষ্টতা দূর করতে আগামী সপ্তাহে বার্নহ্যাম একটি ভাষণ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলার নীতিও বজায় রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই নীতির লক্ষ্য হলো ঋণ গ্রহণ সীমিত রাখা এবং দশকের শেষ নাগাদ কর রাজস্ব থেকে সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো। বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি কে তার অর্থমন্ত্রী হবেন। একটি সূত্র বলেছে, কোনো পদ বণ্টন করা হয়নি এবং কোনো সমঝোতাও হয়নি।
