স্কটল্যান্ডের সমর্থকরা এবার বিশ্বকাপ উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। একটি রোবটকে সঙ্গে নিয়ে নাচ-গানে মেতে উঠেছেন তারা। বিশ্বকাপের গ্রুপ সি-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে নামার আগে মায়ামিতে উচ্ছ্বাসে ভাসছে স্কটল্যান্ড সমর্থকরা। স্টিভ ক্লার্কের দল স্কটল্যান্ড হেরে গেলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের ঝুঁকিতে পড়বে।
এর আগে হাইতিকে ১-০ ব্যবধানে হারালেও মরক্কোর কাছে একই ব্যবধানে হেরে যায় স্কটল্যান্ড। তাই ব্রাজিল ম্যাচকে তারা ‘ডু অর ডাই’ লড়াই হিসেবে দেখছে। মায়ামিতে ম্যাচের আগে সমর্থকদের দেখা যায় একটি নাচতে থাকা রোবটের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। রোবটটি পরেছিল স্কটিশ ঐতিহ্যবাহী কিল্ট এবং মাথায় ছিল ট্রাফিক কোণ। ট্রাফিক কোণ মাথায় দেয়ার এই প্র্যাঙ্ক স্কটিশ সমর্থকদের বহু পুরোনো একটি ঐতিহ্য, যা ১৯৮০-এর দশক থেকে শুরু হয়েছে। এটি প্রথম দুই ম্যাচের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বিশেষভাবে দেখা গেছে। স্কটল্যান্ড সমর্থকদের এই প্রাণবন্ত উপস্থিতি স্থানীয়দের মন জয় করেছে। এমনকি বোস্টনের কর্মকর্তারাও তাদের এই উচ্ছ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছেন। বোস্টন গ্লোব পত্রিকাও স্কটিশ সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা প্রকাশ করেছে।
পত্রিকাটি লিখেছে, ‘প্রিয় টার্টান আর্মি, তোমরা বিশ্বকাপের জন্য এসেছিলে, কিন্তু আমাদের আরও কিছু দিয়েছ।’ তারা আরও লিখেছে, ‘তোমরা এক সপ্তাহে ট্রেন স্টেশনকে গান-বাজনায় ভরিয়ে দিয়েছ, ফ্যানওয়েকে ফুটবল স্টেডিয়ামে রূপ দিয়েছ, আর সাধারণ জুন মাসকে এমন এক সময় বানিয়েছ যা আমরা বহু বছর মনে রাখব।’ বোস্টন গ্লোব আরও জানায়, শহরটি বহু ধরনের উৎসব ও উদযাপনের সাক্ষী হলেও স্কটিশ সমর্থকদের মতো অতিথি আগে কখনও পায়নি। তারা স্কটিশ সমর্থকদের গান, ব্যাগপাইপ এবং আনন্দঘন মুহূর্তের জন্য ধন্যবাদ জানায় এবং বলে, বিশ্বকাপ এগিয়ে যাবে, গানও থেমে যাবে। কিন্তু এই আনন্দ তারা ভুলবে না।
এদিকে মায়ামিতে স্কটিশ সমর্থকদের এক অনুরূপ কাণ্ড পুলিশি হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হয়। একজন সমর্থক একটি মূর্তির মাথায় ট্রাফিক কোণ বসানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তা থামিয়ে দেয়।
