কয়েক সেকেন্ড পরই ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজাবেন রেফারি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচে শেষ মুহূর্তের টানটান উত্তেজনা। ঠিক তখনই বিশ্ব ফুটবল দেখলো এক অনন্য ও রূপকথার মতো দৃশ্য। সাধারণত গোল করে ফুটবলাররা সতীর্থদের দিকে ছোটেন। তবে লিওনেল মেসি মেতে উঠলেন এক ভিন্ন উদযাপনে। গোলপোস্টের জাল কাঁপিয়েই তিনি সরাসরি ছুটে গেলেন পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাংবাদিকের দিকে, বাড়িয়ে দিলেন হাত।
মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়ার এই ছবির নায়ক আর কেউ নন, আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টসের পরিচিত মুখ হোয়াকিন ব্রুনো। সাংবাদিকতা জীবনে রেসিং ক্লাবের খবর ও ‘প্রেসিওন আলতা’ অনুষ্ঠানের জন্য পরিচিত ব্রুনো এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায়।
ম্যাচের শেষ দিকে সহকর্মী গাস্তোন এদুল মিক্সড জোনে চলে যাওয়ায় গোলপোস্টের পেছনে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্রুনো। অস্ট্রিয়ার গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার ও ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে তৃতীয় প্রচেষ্টায় যখন ‘লা পুলগা’ বল জালে জড়ালেন, তখন মাত্র কয়েক মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রুনো পেশাদারিত্ব ভুলে মেতে ওঠেন সাধারণ সমর্থকের মতো উন্মাদনায়।
সেই অবিশ্বাস্য মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ব্রুনো বলেন, ‘আমি এখনো কাঁপছি। কেমন যেন ঘোরের মতো একটা অনুভূতি। মাত্র কয়েক মিটার দূর থেকে সাধারণ এক সমর্থকের মতো আমিও পাগলের মতো চিৎকার করে গোল উদযাপন করছিলাম। ঠিক তখনই দেখলাম লিও আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং কাছে এসে হাই-ফাইভ করলেন। একজন আর্জেন্টাইন এবং মেসি ভক্ত হিসেবে এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। জীবনের বাকিটা সময় আমি এই স্মৃতি ও ছবিটা বুকে বয়ে বেড়াব।’
ঘটনার আকস্মিকতায় ব্রুনোর মনে তখন একটাই ভয় কাজ করছিল-ক্যামেরায় এই মুহূর্তটি ধরা পড়েছে তো? তিনি বলেন, ‘আমার এই উদযাপনের ছবি লাগবে। কেউ না কেউ তো তুলেছেই, তাই না। আমার এটা লাগবে।’ সহকর্মীদের কাছে আকুতি জানান ছবিটার জন্য। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তার ফোনে জমা হতে থাকে অজস্র বার্তা। ফটোগ্রাফাররা ততক্ষণে ফ্রেমবন্দী করে ফেলেছেন ফুটবলের অন্যতম সেরা এক মুহূর্ত।
চলমান টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার প্রতি মুহূর্তের খবর সংগ্রহ করা ব্রুনোর জীবনের সেরা প্রতিবেদনটি হয়তো কোনো কাগজে লেখা থাকবে না। তবে তা চিরকাল জীবন্ত থাকবে ইতিহাসের ফ্রেমে, যেখানে ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি গোল উদযাপনে তার দিকেই হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
