রক্ষণভাগের বীরত্বে বেলজিয়ামকে রুখেই দিলো ইরান

রক্ষণভাগের বীরত্বে বেলজিয়ামকে রুখেই দিলো ইরান

ফন্ট সাইজ:

মাঠের ফুটবলে আক্রমণ আর বল পজিশনে বেলজিয়ামের একচেটিয়া দাপট থাকলেও, রক্ষণভাগের সুশৃঙ্খল ফুটবলে রোমাঞ্চকর এক ড্র আদায় করে নিয়েছে ইরান। সোফি স্টেডিয়ামে পুরো ম্যাচের ৭০ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে বেলজিয়াম ২৩টি শট নিলেও ইরানের ডিফেন্সিভ লক ভাঙতে পারেনি। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের এক আত্মঘাতী লাল কার্ড নাটকীয়ভাবে ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইরানকে চেপে ধরে বেলজিয়াম। ৩ মিনিটের মাথায় ডি ব্রুইনার এক বিপজ্জনক ক্রস রুখতে গিয়ে ইরানি গোলকিপার আলিরেজা বেইরানভান্দের সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষ হয় বেলজিয়ান স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুর। বলের নাগাল পেতে গিয়ে গোলকিপারকে আঘাত করায় লুকাকুকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ১৪তম মিনিটে প্রথম কাউন্টার অ্যাটাক থেকে উল্টো বেলজিয়ামকে চমকে দেয় ইরান। কানানির দুর্দান্ত এক শট ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন থিবো কোর্তোয়া।

ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ২৫তম মিনিটে। ফ্রি-কিক থেকে দারুণ চতুরতায় বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সে বল বাড়ান হাজিসাফি। সেখান থেকে নিখুঁত টার্ন ও ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান ইরানি স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি। তবে ভিএআর চেকের পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলে বড় বাঁচা বেঁচে যায় বেলজিয়াম।

এদিকে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে মাঠের বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন ফক্স নিউজে ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির ভিসা নিয়ে কিছু অভিযোগ তোলেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশন অবিলম্বে সেটিকে ‘মিথ্যা ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

বিরতির পর মাঠে ফিরে আক্রমণের ধার বাড়ায় বেলজিয়াম। ৫৯তম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার দারুণ ক্রস থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন রোমেলু লুকাকু। এর ঠিক পরপরই ৬৮তম মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার এনগয় গোলকিপার কোর্তোয়াকে লক্ষ্য করে একটি দুর্বল ব্যাক-পাস দেন। ওত পেতে থাকা ইরানি স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি বলটি কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সের দিকে ছুটে যাচ্ছিলেন। গোল বাঁচানোর আর কোনো উপায় না দেখে ‘লাস্ট ম্যান’ হিসেবে তারেমির কাঁধ ধরে টেনে ফেলে দেন এনগয়। রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বেলজিয়াম।

ইরানি গোলকিপার আলিরেজা বেইরানভান্দ আজ মাঠে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ৮৬ মিনিটে দে কুইপারের জোরালো শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে তিনি দলের ক্লিন শিট বজায় রাখেন। সাকুল্যে ৭টি সেভ দিয়েছেন তিনি।

শেষদিকে বেলজিয়ামের তরুণ ফার্নান্দেজ-পার্দো ও লুকবাকিও সুযোগ তৈরি করলেও ভাঙতে পারেননি ইরানের রক্ষণ। পুরো ম্যাচে মাত্র ৭টি শট নিয়েও বেলজিয়ামের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে মূল্যবান ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিলো ইরান।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন