সামনে ইরাক তবু নির্ভার নয় ফ্রান্স

সামনে ইরাক তবু নির্ভার নয় ফ্রান্স

ফন্ট সাইজ:

র‌্যাঙ্কিং আর শক্তিমত্তায় ইরাকের চেয়ে যোজন-যোজন এগিয়ে ফ্রান্স। কিন্তু সেনেগালকে হারিয়ে প্রত্যাশিত শুরুর পরও নির্ভার নয় লা ব্লুরা। ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে দলটি। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে আজ রাত ৩টায় শুরু হবে ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ। জিতলে পরের রাউন্ড নিশ্চিত ফ্রান্সের। ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। অচেনা প্রতিপক্ষের কৌশল নিয়ে সতর্ক ফরাসিরা। ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে বলেন, ‘ওরা ৪-৪-২ ছকে খেলে, সামনে শক্তিশালী ফরোয়ার্ড আছে। খুব সরাসরি ফুটবল খেলে তারা। সেই চ্যালেঞ্জের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ ইরাকের বিপক্ষে বড় ব্যবধানের জয়ে চোখ থাকবে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের। কারণ গোল ব্যবধানে এই মুহূর্তে ‘আই’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় নরওয়ের পেছনে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ফ্রান্স। নরওয়ে যদি দিনের অপর ম্যাচে সেনেগালকে হারায় তারাও পৌঁছে যাবে শেষ ৩২ রাউন্ডে। সেক্ষেত্রে ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচটি হয়ে উঠবে গ্রুপ নির্ধারক।

ইরাক ও সেনেগাল হেরে গেলেও সরাসরি বাদ পড়বে না। এ দুটি দল শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে। সেখানে যারা বড় জয় পাবে, তাদের তৃতীয় হয়ে শেষ ৩২-এ যাওয়ার একটা সুযোগ থাকবে। আর ইরাক কোচ গ্রাহাম আরনল্ড বলেন, ‘এখনো তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ রয়েছে। পরের রাউন্ডে যেতে তিন পয়েন্টই যথেষ্ট হতে পারে। নরওয়ের বিপক্ষে আমরা লড়াই করে হেরেছি। ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত।’ সেনেগালের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ফ্রান্স। যদিও কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে শেষতক ৩-১ ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে তারা, কিন্তু তাদের পরফরম্যান্স তুষ্ট করতে পারেনি সমর্থকদের। অন্যদিকে নরওয়ের কাছে ৪-১ গোলে হারলেও ম্যাচের শুরুতে ভালো ফুটবল খেলেছিল ইরাক। তাই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ ফরাসি তারকা উইলিয়াম সালিবা। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘তাদের ভালো দল আছে, তাই ম্যাচটা সহজ হবে না, যদিও অনেকেই তা ভাবতে পারে। তারা বিশ্বকাপে উঠেছে, বলিভিয়াকে হারিয়ে জায়গা নিশ্চিত করেছে, স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছে। আমরা কঠিন এক লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছি।’

১৯৮৬ সালে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ইরাক। সেই আসরে তিনটি ম্যাচই হারে তারা। এবার মূল পর্বে উঠতে তাদের খেলতে হয়েছে ২১টি বাছাইপর্বের ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে টিকিট নিশ্চিত করে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। আর লুকাস দিনিয়ে মনে করেন, টিকে থাকার লড়াইয়ে ইরাক আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ম্যাচটা খুবই তীব্র হবে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তাদের জিততেই হবে। তাই শারীরিকভাবে কঠিন এক ম্যাচের জন্য তৈরি থাকতে হবে।’
এদিকে প্রথম ম্যাচে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মাঠের মান নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন ফরাসি খেলোয়াড়রা। সালিবা জানান, ঘাসের অবস্থা প্রত্যাশিত ছিল না। তার আশা, ফিলাডেলফিয়ার মাঠ ভালো হবে। সালিবা বলেন, ‘মাঠের মান দেখে আমি কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। ঘাসটা কৃত্রিম ও শক্ত মনে হচ্ছিল। অবশ্য দুই দলই একই মাঠে খেলেছে, কিন্তু মানটা মোটেও সেরা ছিল না।’

‘আই’ গ্রুপের সমীকরণ
দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলেই ফ্রান্স ও নরওয়ে নিশ্চিত করবে শেষ ৩২-এর টিকিট। দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেও সঙ্গে সঙ্গে বিদায় নেবে না সেনেগাল ইরাক। শেষ ম্যাচে তারা একে অপরের মুখোমুখি হবে। সেখানে বড় ব্যবধানের জয়ে তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ রয়েছে।

নকআউট পর্বে ‘আই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন পাঁচটি সম্ভাব্য গ্রুপের কোনো একটির তৃতীয় স্থানধারী দলের মুখোমুখি হবে। আর রানার্সআপ খেলবে ‘ই’ গ্রুপের রানার্সআপের বিপক্ষে। অঘটন না ঘটলে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে আইভরি কোস্ট কিংবা ইকুয়েডর।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন