বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে জাপানের ইতিহাস

ফন্ট সাইজ:

কোচ বদলালেই যে দলের ভাগ্য বদলায় না, তার নির্মম প্রমাণ তিউনিসিয়া। গত সপ্তাহে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সাব্রি লামুচিকে বরখাস্ত করে কোচ হার্ভে রেনার্ডকে নিয়োগ দেয় দলটি। তবে মাঠের খেলায় রক্ষণভাগের রকই দৈন্যদশা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব দূর হয়নি। ফেয়েনুর্ড সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড আয়াসে উয়েদার জোড়া গোল এবং দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতোর দুর্দান্ত স্ট্রাইকে ৪-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে জাপান। সেইসঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্লু সামুরাইরা। অন্যদিকে, টানা দুই হারে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে গেছে তিউনিসিয়ার।

এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের ১,০০০তম ম্যাচ। ১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওতে ফ্রান্স-মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়ামের ম্যাচ দিয়ে মহাযজ্ঞের শুরু হয়। ৯৬ বছর পর মেক্সিকোর মন্টেরির তপ্ত আবহাওয়ায় দেখা গেল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এশিয়ান কোনো দেশের সবচেয়ে বড় জয়। গতকালের জাপান ম্যাচ পর্যন্ত বিশ্বকাপে এশিয়ান দলগুলার খেলা ম্যাচ সংখ্যা ১৬৪। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০ ম্যাচ খেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ২৮ ম্যাচ খেলে দুইয়ে জাপান। তিনে থাকা অস্ট্রেলিয়া খেলেছে ২৪ ম্যাচ। চারে থাকা সৌদি আরব গতকাল খেলেছে তাদের ২১তম ম্যাচ। বিশ্বকাপে প্রথমবার চার গোল করলো এশিয়ান কোনো দল। ম্যাচ শেষে তিউনিসিয়ার নবনিযুক্ত কোচ রেনার্ডকে বেশ অসহায় দেখায়। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও ভালো একটি পারফরম্যান্স আশা করেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত ব্যবধানটা অনেক বড় হয়ে গেছে। তবে এটি দুই দলের মাঠের পার্থক্যেরই প্রতিফলন। আজ আমাদের রক্ষণভাগের সঠিক পরিকল্পনার অভাব ছিল।’ অন্যদিকে, জাপানি কোচ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামায়নি এবং আমরা মাঠে যা করতে চেয়েছিলাম, তারা তা পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে।’ ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়াকে চেপে ধরে হাজিমে মোরিয়াসুর দল। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটের মাথায় ইতো নাকামুরার নিচু ক্রস থেকে বল তিউনিসিয়ার ডি-বক্সে জটলার সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তা কামাদার পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে উয়েদা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে এক দারুণ শটে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন তিনি।

বিরতির পর তিউনিসিয়া কিছুটা গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও, ম্যাচের ৬৯ মিনিটে উয়েদার পাস থেকে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইতো। এরপর ৮৩তম মিনিটে উয়েদার চমৎকার একটি লুপিং হেডার তিউনিসিয়ার জালে শেষবার বল জড়ায়।
টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই তিউনিসিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। মাত্র তিন দিন আগে দায়িত্ব নেয়া রেনার্ডের জাদুকরী সাদা শার্টের ভাগ্য এবার আর কাজ করেনি। আগামী বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তিনি ডাগআউটে দাঁড়াতে পারবেন কি না, তা নিয়েই এখন বড় সংশয় তৈরি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন