ফরম্যাট বদলের সঙ্গে সঙ্গে খেই হারিয়ে ফেললো বাংলাদেশ দল। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলো টাইগাররা। ৯ ওভার ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই বাংলাদেশের দেয়া ১১০ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেললো অজিরা। ফলে সিরিজের তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হেরে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার তিক্ত স্বাদ নিতে হলো বাংলাদেশকে।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তার দল। মাত্র ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে একপর্যায়ে সর্বনিম্ন ৭০ রানে অলআউটের চরম লজ্জার রেকর্ডের শঙ্কায় পড়ে টাইগাররা। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউটের দুর্ভাগ্যে কাটা পড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এরপর শুরু হয় ব্যাটারদের ডট বলের মহড়া ও উইকেট বিলিয়ে দেয়ার খেলা। জনসনের শিকার হয়ে সাইফ হাসান করেন ৯ বলে মাত্র ১ রান। তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন পাওয়ার প্লেতে চরম ধীরগতির ব্যাটিং উপহার দিয়ে ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হন। এটি দেশের ক্রিকেটে ১০ বলের বেশি খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেটের রেকর্ড।
এরপর দ্রুতই বিদায় নেন নুরুল হাসান সোহান (৬) ও শামীম পাটোয়ারী (৩)। একপর্যায়ে রিশাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক হৃদয়। রিশাদ ১৪ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও, তাওহীদ হৃদয়ের একার লড়াই ও লড়াকু অর্ধশতকে ভর করেই ১০০ রানের গণ্ডি পার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের পুঁজি দাঁড়ায় মাত্র ১০৯ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রান করে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। ১১০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই রীতিমতো ঝড় তোলে অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের করা ওই ওভারে ৪ বাউন্ডারিতে আসে ১৭ রান। এমন শুরুর পর কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
বিশেষ করে অজি ওপেনার মিচেল মার্শ একাই ম্যাচটি সহজ করে দেন। ২৮ বলে খেলেন ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ফলশ্রুতিতে ৫৪ বল (৯ ওভার) হাতে রেখেই হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের শরিফুল, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন।
