​ব্রাজিলের সহজ জয়, তবে...

​ব্রাজিলের সহজ জয়, তবে...

ফন্ট সাইজ:

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাড়মেড়ে ড্রয়ের পর জয়ের দেখা পেলো ব্রাজিল। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়াকু কিন্তু কিছুটা দুর্বল প্রতিপক্ষ হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারালো কার্লো আনচেলোত্তির দল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরলেও, অতীতের সেই চেনা ছন্দ বা আক্রমণের ধার অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল সেলেসাওদের খেলায়।

ফিলাডেলফিয়ার ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য দেখায় ব্রাজিল। পুরো ম্যাচে ৫৭ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মোট ৮টি শট নেয় তারা, যার মধ্যে বড় সুযোগ তৈরি হয় ৪টি। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ বল দখল রাখা হাইতি ৭টি শট নিলেও, ব্রাজিলের ডেঞ্জার জোনে তেমন কোনো ভীতি ছড়াতে পারেনি। তাদের তৈরি করা এক্সপেক্টেড গোলস (xG) ছিল মাত্র ০.২৩, যেখানে ব্রাজিলের ছিল ১.৫৬।

১২তম মিনিটে রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও, ডেডলক ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। ২৩তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় সেলেসাওরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট হাইতির গোলকিপার প্লাসাইড ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে মাথেউস কুনহা পা ছোঁয়ান। বলটি ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে আত্মঘাতী হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত গোলটি কুনহার নামেই নথিভুক্ত হয়।

ব্যবধান দ্বিগুণ করতেও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ৩৬ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের চমৎকার পাস থেকে বল পান কুনহা। কিছুটা কঠিন কোণ থেকে নিজের দুর্বল বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালের ওপরের অংশে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্ট্রাইকার। বিরতির ঠিক আগে, (৪৫+৩) হাইতির রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ভিনিসিয়ুস। লুকাস পাকেতার রক্ষণভেদ করা দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে গোলটি করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিন গোল দেয়ার কৃতিত্ব দেখালো ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে একধরনের অলসতা দেখা যায়। গোলসংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে শক্তি জমিয়ে রাখা এবং সময় পার করার দিকেই বেশি মনোযোগ দেয় তারা।

৫৭তম মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ভিনি। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে হাইতির সিমনের এক দূরপাল্লার জোরালো শট চমৎকার ‘হলিউড সেভ’-এ রুখে দিয়ে ক্লিনশিট বজায় রাখলেন অ্যালিসন বেকার। ম্যাচে দুই দলই বেশ ফাউল করলো। ব্রাজিলের ১৩টির বিপরীতে হাইতি করলো ১৪টি ফাউল।

এই জয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন কিছুটা গতি পেলো ঠিকই, তবে গ্রুপ ‘সি’র শীর্ষস্থান নির্ধারণে যদি শেষ পর্যন্ত গোল ব্যবধানের হিসাব আসে, তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের এই ঢিলেঢালা মনোভাব তাদের বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন