জি৭ সম্মেলনে ছবি তোলার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেন, ট্রাম্প এই গল্পটি পুরোপুরি বানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিল মাসে এই দুই সাবেক মিত্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল।
তবে ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে বেশ কয়েকটি একান্ত বৈঠকের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ইতালীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লা৭ সম্প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে মেলোনিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, সে (মেলোনি) হয়তো খুশি যে আমি তার সাথে কথা বলেছি। আমার তার সাথে কথা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল না। সে আমার সাথে একটি ছবি তোলার জন্য আকুতি জানিয়েছিল। সে আমার সাথে ছবি তুলতে এতটাই মরিয়া ছিল যে, আমি প্রথমে তুলতে না চাইলেও পরে তার জন্য মনে কষ্ট পেয়ে ছবি তুলি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালিতে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে মেলোনির প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহে তার পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। এক্সে সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়ে তাজানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়ার প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই গুরুতর ও আপত্তিকর মন্তব্য পুরো ইতালিকে অপমান করেছে। মেলোনি তার ইনস্টাগ্রামে ইতালি এবং আমি কখনো আকুতি করি না ক্যাপশন দিয়ে করা একটি ভিডিও পোস্টে বলেন, কিছু বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন। ডনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সত্যি বলতে, আমি স্তম্ভিত। আমি জানি না কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সাথে এমন আচরণ করেন। এটি এবারই প্রথম নয়, আমি শুধু বলব এটি দুর্ভাগ্যজনক যে তিনি পাশ্চাত্যের শত্রুদের বিরুদ্ধে এমন দৃঢ়তা দেখান না।
এর আগে ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দল ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে বলেন, ইতালি এভাবে প্রকাশ্যে অপমানিত হওয়ার যোগ্য নয়। এছাড়া ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি জিওভানবাত্তিস্তা ফাজোলারি এক বিবৃতিতে বলেন, এটি স্পষ্ট নয় যে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে নাকি নিজের অযোগ্যতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক নষ্ট করছেন। তার এই অনভিপ্রেত আচরণের কারণে পুরো ইউরোপ মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্র আজ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা শুধু ইউরোপেরই নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও ক্ষতি করছে।
