ইথিওপিয়ার নির্বাচনে আবেই’র দলের ভূমিধস বিজয়

ইথিওপিয়ার নির্বাচনে আবেই’র দলের ভূমিধস বিজয়

ফন্ট সাইজ:

দেশজুড়ে চরম অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার মধ্যেই ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক এবং সংসদীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভ করেছে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী আবেই আহমেদের দল। ১লা জুন অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে দেশটির জাতীয় নির্বাচন বোর্ড। এতে আবেই’র প্রসপারিটি পার্টি পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। জাতীয় নির্বাচন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ঘোষিত আসনগুলোর মধ্যে আবেই’র প্রসপারিটি পার্টি ৪৩৮ আসনে জয়লাভ করেছে, যা ঘোষিত আসনের প্রায় ৯০ ভাগ।

এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য যেখানে ২৭৪টি আসনের প্রয়োজন, সেখানে আবেই’র দল অনায়াসেই তা পার করে যায়। এর মাধ্যমে পরবর্তী মেয়াদের জন্য আবেই’র ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পথ সুগম হলো। দেশটিতে এবার নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ কোটিরও বেশি। তবে পার্লামেন্টের মোট ৫৪৭টি আসনের সবগুলোতে এবার ভোট হতে পারেনি। দেশটির উত্তরের টাইগ্রে অঞ্চলে কোনো ভোট হয়নি। ২০২০-২২ সাল পর্যন্ত চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর থেকে সেখানে তীব্র রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করায় নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ওই অঞ্চলকে ভোটের বাইরে রাখে। এছাড়াও আমহারা অঞ্চলের ১৩৮টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে অন্তত ৮টি আসনে নিরাপত্তা সংকটের কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।

৪৯ বছর বয়সী আবেই এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করলেন। তিনি ২০১৮ সালে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা ইপিআরডিএফ জোটের বিরুদ্ধে একটি গণআন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এবং ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেন। এর পরের বছরই তিনি প্রসপারিটি পার্টি গঠন করেন। ২০২১ সালের বিগত নির্বাচনেও তার দল প্রায় সমপরিমাণ আসনে জয় পেয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় আবেই’র প্রসপারিটি পার্টির প্রার্থীরা মূলত খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাফল্যকে সামনে এনেছিলেন। কর্মকর্তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ ভাগ ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা আফ্রিকা অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশটিতে ১৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বাস।

এদিকে, প্রতিপক্ষ দলগুলো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুর্বল ও খণ্ডিত থাকায় আবেই’র দলকে নির্বাচনে তেমন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে প্রধান বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে যে তাদের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনি বাধা সৃষ্টি করে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেয়া হয়েছে, যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাছাড়া গণমাধ্যমের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে; গত ফেব্রুয়ারি মাসে রয়টার্সের তিনজন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায় দেশটির মিডিয়া অথরিটি।

দেশটিতে ২০২২ সালের শান্তি চুক্তির মাধ্যমে টাইগ্রে অঞ্চলের গৃহযুদ্ধ থামলেও অন্য বড় অঞ্চলগুলোতে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে সরকারি বাহিনীর সংঘাত এখনো চলমান। আবেই’র নিজের জন্মস্থান ওরোমিয়া অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ওরোমো লিবারেশন আর্মির সাথে এবং আমহারা অঞ্চলে ‘ফানো’ নামক মিলিশিয়া বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন