নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৪ পুলিশ সদস্যসহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী অমিত হাসান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ ডিবি দক্ষিণে কর্মরত এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির এবং কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদ।
নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁয়ের বারদী এলাকা থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) কর্মরত অমিত হাসান এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় আসেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে অমিত হাসান চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে এবং সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই আমান উল্লাহ ও কনস্টেবল কবিরকে আটক করে গণপিটুনি দেয় জনতা। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও ৩ জন প্রাইভেটকার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা আটক ৩ জনকে একটি পিকআপে করে আড়াইহাজারের শান্তিনগর বাজারে নিয়ে গেলে সেখানে আবারো তাদের মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ৩ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত আরেক পুলিশ সদস্য কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা গেছে, অভিযুক্তরা এর আগেও অপহরণের নাটক সাজিয়ে অমিত হাসানের দূরসম্পর্কের মামা জয়নাল এবং সোনারগাঁয়ের জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত। এসব অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এসে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে, যা বিধিবহির্ভূত। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী অমিত হাসান বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় ৪ পুলিশ সদস্যসহ মোট ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলছে।
