প্রবাসী ছোট বোনের কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের পাঁয়তারা

প্রবাসী ছোট বোনের কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের পাঁয়তারা

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে মেক্সিকো প্রবাসী এক নারীর প্রায় কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার আপন বড় বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনে-ভাগনিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্প্রতি এ মামলাটি করেছেন উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী সাজেদা আক্তার। তিনি ন্যায়বিচার ও বাড়িটি ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী সাজেদা আক্তার দীর্ঘ ১৬ বছর মেক্সিকোতে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। নিঃসন্তান হওয়ায় তিনি বড় বোন রংমালা ও ভগ্নিপতি তৈয়বুর রহমানের পরিবারের ওপর আস্থা রেখে বিভিন্ন সময়ে দেশে অর্থ পাঠান এবং স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সম্পদ তাদের জিম্মায় রাখেন। পরে প্রেরিত অর্থ দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার বসুন্ধরা আবাসিক কলোনিতে প্রায় ৬ শতাংশ জমি ক্রয় এবং একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়।

জমির দলিল, নামজারি ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র সাজেদা আক্তারের নামেই সম্পন্ন করা হয়। সম্প্রতি দেশে ফেরার পর তিনি দেখতে পান, বাড়িটি তার বড় বোনের পরিবার নিয়ন্ত্রণ করছে। নিজের বাড়িতে বসবাস করতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পাঠানো অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য সম্পদের হিসাব চাইলে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
পরবর্তীতে সাজেদা আক্তার সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র ইন্সপেক্টর রমা প্রসাদ বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযুক্ত রংমালা বলেন, বর্তমানে আমরা যে বাড়িতে বসবাস করছি, তার দলিল, নামজারি ও বিদ্যুৎ সংযোগ সাজেদা আক্তারের নামেই রয়েছে। তবে বাড়ি ক্রয়ের সময় আমি ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ টাকা সহযোগিতা করেছি। মামলা ও অন্যান্য দাবি প্রত্যাহার করা হলে বাড়িটি ছেড়ে দিতে রাজি আছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন