স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, খাল, নদী ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুক্রবার সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রিকাবীবাজার এলাকার দখলকৃত খাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ২৫ বছর যাবত দখল হওয়া নয়নের খাল নামে একটি খাল সরজমিন ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে খালের বর্তমান বেহাল চিত্র দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সে খাল দূষণের শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করে গাইড লাইন করে দেয়া হবে। পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেবো। খাল উদ্ধার শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়। খাল দখল হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই নয়নের খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার সারা দেশে নদী-খাল রক্ষায় কাজ করছে। নয়নের খালের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না। কেউ যেন পুনরায় খাল দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হবে।
খাল উদ্ধার করে এটিকে আগের মতো সচল ও পরিবেশবান্ধব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিমন্ত্রীর কাছে দ্রুত খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের দাবি জানান। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ খাল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সব দখলদারদের জন্য দুঃসংবাদ। যারা খাল দখল করেছে, সে যে-ই হোক তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, দীর্ঘ ২৫ বছরের দখল ও দূষণের অবসান ঘটিয়ে নয়নের খাল আবারো তার হারানো ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফিরে পাবে এবং একসময়কার মতো এলাকার মানুষের সত্যিকারের ‘নয়ন জুড়ানো’ খালে পরিণত হবে। এদিন খাল পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক একে এম ইরাদত মানুসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
