কখনো তীব্র তাপপ্রবাহ, আবার হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা দ্রুত কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে শীতল পরিবেশ। কুড়িগ্রামের আবহাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে অস্বাভাবিকতা। আবহাওয়ার এমন আকস্মিক পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে জেলার পোল্ট্রি খাতে। বিভিন্ন এলাকায় মুরগির খামারে রোগব্যাধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি মারা যাচ্ছে মুরগি। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ক্ষুদ্র খামারি ইন্তাজ খান বলেন, কয়েক দিনের তীব্র গরমে তার খামারের মুরগিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে খামারে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু মুরগি মারা গেছে। চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বাড়লেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
খামারি আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রথমে ২০টি মুরগি নিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ায় সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় আটটি মুরগি মারা যায়। এবার প্রায় ১০০টি বাচ্চা তোলার পরিকল্পনা থাকলেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে খামার পরিচালনা করতে পারলে মুরগির মৃত্যুহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এজন্য খামারের স্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাতের বাচ্চা নির্বাচন, নিয়মিত টিকাদান ও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানান, খামার এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে যেখানে অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডার প্রভাব তুলনামূলক কম। পাশাপাশি জীবাণু প্রবেশ রোধে বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অধিক গরমের সময় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, খামারের চাল বা আশপাশে পানি স্প্রে করা এবং ঠান্ডার সময় বৈদ্যুতিক বাতি বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, মুরগির জন্য ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সবচেয়ে উপযোগী। তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হিট স্ট্রেস দেখা দেয় এবং দ্রুত তাপমাত্রা কমে গেলে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমানে কুড়িগ্রামে দিনে তীব্র গরম এবং বৃষ্টির পর রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় মুরগি সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র খামারিদের দক্ষ করে তুলতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বিনামূল্যে ২ থেকে ৭ দিনের প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। কোনো খামারির অধিকাংশ মুরগি রোগ বা দুর্ঘটনায় মারা গেলে প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে আবেদন করে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
