‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে খ্যাত পাট একসময় নাটোরের লালপুর উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল। নানা কারণে মাঝখানে পাট চাষে ভাটা পড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবারো আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। সম্প্রতি উপজেলার দুড়দুড়িয়া, বিলমাড়িয়া, আড়বাব ও ওয়ালিয়া ইউনিয়ন ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাটের বাম্পার ফলন ও নায্য দাম পাওয়ার আশায় নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও পদ্মার চরাঞ্চলে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে যা গত মৌসুমের তুলনায় ১ হাজার ৯৫ হেক্টর বেশি।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯১ বেল। পাটের ভালো বাজারদর, তুলনামূলক লাভজনক উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশের চাহিদা বাড়ায় আবারো পাট চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। উপজেলার বড়বড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. বেলাল হোসেন (৪০) মানবজমিনকে বলেন, গত দুই মৌসুমে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাট চাষে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি। আশা করি বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাবো। গৌরীপুর গ্রামের কৃষক মো. আল আমিন সজল (৪৩) বলেন, এ বছর ডিজেলের দাম বেশি থাকলেও রোগবালাই কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হয়েছে।
আশা করি প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট উৎপাদন হবে। উধনপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আলাউদ্দিন জালাল (৫৪) মানবজমিনকে বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি প্রণোদনার সার ও পাট বীজ যদি প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়, সরকার যদি বাজার ব্যবস্থাপনায় নজর দেয়, বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে, পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও সঠিক দাম নিশ্চিত করে তাহলে আরও বেশি কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় মানবজমিনকে জানান, আমরা কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছি। চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনার আওতায় ১ হাজার কৃষকের মাঝে উন্নতমানের পাট বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ১ হাজার ৯৫ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে বলে আশাবাদী তিনি।
