সাতক্ষীরায় একদিনে তিন মরদেহ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

সাতক্ষীরার তিন উপজেলায় পৃথক ঘটনায় একদিনে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে সদর, কলারোয়া ও আশাশুনিতে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি আত্মহত্যা, একটি রহস্যজনক মৃত্যু এবং অপরটি পানিতে ডুবে মৃত্যু বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু ও হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বেড়বাড়ি গ্রামে নিজ ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় অমিত হাসান (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে অমিত দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন।

এতে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি মাদকাসক্তির কারণেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। অপরদিকে কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের একটি মোবাইল ফোন টাওয়ারের পাশে মেহেদী হাসান (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। কলারোয়া থানার ওসি মো. শাহিন বলেন, ঘটনাস্থলের আলামত ও মরদেহের অবস্থা দেখে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

নিহত মেহেদী উপজেলার কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। এদিকে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বেউলা লম্বাডাঙ্গা খাল থেকে আব্দুর রহিম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার শ্বেতপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দীনের ছেলে। আশাশুনি থানার ওসি শামীম আহমেদ খান জানান, আব্দুর রহিম দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা অধিকাংশ সময় তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি নিয়মিত ভোরে নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হতেন। শুক্রবার ভোরেও তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত খালে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন