রামগঞ্জে শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রামগঞ্জে শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি’র আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৪) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দুইদিন পর গতকাল নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানসহ সাত শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৯-১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আবাসিক হলে থাকার সময় মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিল। এ বিষয়ে একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর আইফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেহেদীকে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

এরপর তাকে নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রতিকার মেলেনি; বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে মেহেদীর পরিবারকে ফোন করে জানানো হয়, সে গুরতর অসুস্থ। খবর পেয়ে স্বজনরা বিদ্যালয়ে পৌঁছালে জানতে পারেন, তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা মেহেদীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, মেহেদীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্থাপিত হত্যা, নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন