চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায় এক শিপইয়ার্ড মালিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। হামলায় ব্যর্থ হয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিল্প উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার চিন্তা করছেন শিপইয়ার্ড মালিক এস.এম. নুরুন নবী। এতে শিপইয়ার্ডগুলোর ওপর নির্ভরশীল শত শত শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা শঙ্কায় রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, তিনটি শিপইয়ার্ড বন্ধ হয়ে গেলে কর্মহীন হয়ে পড়বে শত শত পরিবার, স্থবির হয়ে পড়বে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
স্থানীয় বাসিন্দারা কর্মকর্তা, কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী ও সহকারী পদে চাকরির পাশাপাশি পুরনো জাহাজের মালামাল ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পান। অভিযোগ রয়েছে, গত শনিবার শিপব্রেকার্স এস.এম. নুরুন নবী তার ইয়ার্ড থেকে ফেরার পথে মো. জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে তার গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং ইয়ার্ডের কর্মকর্তাদের মারধরের ঘটনাও ঘটে। আশপাশের গ্রামবাসীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিওবি রিসাইক্লার্স শিপইয়ার্ডের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে।
তবে মামলার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসএম নুরুন নবীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মধ্য সোনাইছড়ি গ্রামের রফিক, নাছির উদ্দিন, মামুন, রোমান ও তাজুল ইসলামসহ একাধিক বাসিন্দা মানবজমিনকে জানান, এসএম নুরুন নবীর মালিকানাধীন প্রিমিয়াম ট্রেড, মাহিনুর শিপ রিসাইক্লিং ও বিওবি রিসাইক্লার্স শিপইয়ার্ড এলাকার বহু মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। শত শত মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, অনেকে ব্যবসা পরিচালনা করে সংসার চালান। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিপাকে পড়বেন অসংখ্য পরিবার। তাদের ভাষ্য, হামলার ঘটনাটি তাদের সামনেই ঘটেছে। অথচ এখন অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে উল্টো নিজেদের নিরীহ সাজিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তা নুরুন নবী। বিওবি রিসাইক্লার্স শিপব্রেকিংয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এসএম নুরুন নবীর তিনটি শিপইয়ার্ডে প্রায় ৬৫০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯৩টি জাহাজ রিসাইক্লিং করে দেশের নির্মাণ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রদানের পাশাপাশি প্রতি বছর শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় দেড় কোটিরও বেশি টাকা অনুদান দেয়া হয়। তিনি বলেন, একজন শিল্প উদ্যোক্তা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন, তাহলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো এলাকার অর্থনীতি ও শত শত শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা। এদিকে শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
