সিলেট অঞ্চলে হামের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। প্রায় দুই মাস আগে ঠিকা কর্মসূচি শুরু করার পর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল; এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু সেটি না হয়ে দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ঈদের সময় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও গেলো এক সপ্তাহে বেড়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ৩ দিনে মারা গেছে ৭ শিশু। এরা সিলেটের ওসমানী ও শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, গেলো কয়েক দিনে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে প্রায় সবারই বয়স এক বছরের নিচে। তারা টিকা গ্রহণ করেনি। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পিআইসি সাপোর্ট দিলেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
যারা টিকা নিয়েছে তারা চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে বলে জানান তারা। হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে মারা গেছে দুই শিশু। এর আগে বৃহস্পতিবার দুইজন ও বুধবারে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে। এর মধ্যে হাম উপসর্গ নিয়ে ৭২ ও হাম আক্রান্ত হয়ে ৪ জন মারা যান। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলেটের দু’টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্য হয়। মৃত সাত মাস বয়সী শিশু সায়হান মৌলভীবাজার সদরের বাসিন্দা সজল মিয়ার ছেলে; সে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে মারা গেছে।
আর ওসমানী হাসপাতালে মারা যাওয়া পাঁচ মাস বয়সী শিশু আহিয়ান সিলেটের ওসমানীনগরের বাসিন্দা। অপরজন বাড়ি সুনামগঞ্জে। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া একই সময়ে হামের সন্দেহভাজন আরও ৬৯ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৩২৭ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম রোগের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
