ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় একের পর এক বিতর্ক

ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় একের পর এক বিতর্ক

ফন্ট সাইজ:

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় দুই বছর আগের কোভিড-১৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। এসব ঘটনায় পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ ও পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকার পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। এর মধ্যে ভাঙ্গুড়া বাজার থেকে কালিবাড়ি, হাসপাতাল থেকে কাশিপুর মোড় এবং কাশিপুর মোড় থেকে জগতলা মোড় পর্যন্ত ৮১ লাখ টাকার তিনটি সড়ক সংস্কার প্রকল্প ছিল। একই সময়ে এসব সড়কে সড়ক ও জনপথ বিভাগও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এ ছাড়া হাসপাতাল মোড় থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার আরেকটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পও নেয়া হয়, যদিও স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি তখনো চলাচলের উপযোগী ছিল।

প্রকল্পগুলোর কাজ শুরুর তারিখ ছিল ২০২৪ সালের ১৬ই এপ্রিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। পরে সরকার পরিবর্তনের পর তিনটি প্রকল্পের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও বাকি প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসক মিজানুর রহমানের অনুমতিতে সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে ইবনুল হাসান শাকিল সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেন। তবে প্রশাসক মিজানুর রহমান বিল পরিশোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু বিল পরিশোধ করা হয়নি। বিলের কাগজপত্র পিডি অফিসে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত ও যাচাই বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও ২৪ জন কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেন প্রশাসক। এ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মচারীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় নিজেকে বাঁচাতে পৌরসভার সচিবকে শোকজ করেন এই প্রশাসক। পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মনসুর আলম বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কোভিড-১৯ প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটির দায় তার ওপর চাপানোর চেষ্টা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসকের অবস্থান ভিন্ন। ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় গিয়ে প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদ্‌ঘাটন হলে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন