চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক কিশোরীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মৃত কিশোরীর নাম খাদিজা আক্তার (১৫)। তিনি উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার আবদুল জলিলের মেয়ে এবং একই এলাকার মোহাম্মদ মারুফের স্ত্রী। এ বছর তিনি পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছিলো। সাত মাস আগে পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, খাদিজাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খাদিজাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বামী মারুফ। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর খাদিজার মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান মারুফ। পরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে খাদিজার গলায় একটি দাগ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খাদিজার বাবা আবদুল জলিল বলেন, ‘সাত মাস আগে মেয়েটি আমাদের অমতে বিয়ে করেছিল। এরপর থেকে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিল। বিয়ের পরও তার মা রান্না করে খাবার পৌঁছে দিতো।
ছেলেটি বেকার ছিল। মেয়েটা স্বামীকে ছাড়া কখনো ভাত পর্যন্ত মুখে তুলতো না। আমার ছোট মেয়েটা খুব আদরের ছিল। ও যে এভাবে চলে যাবে, আমরা কখনো কল্পনাও করিনি।’ খাদিজার ভাই মো. ফরহাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘যতটুকু তথ্য পেয়েছি, তাতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে জানতে পেরেছি, মৃত্যুর আগে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। এরপর চিকন কোনো কিছু দিয়ে জোরপূর্বক গলায় চাপ দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, রাতে ছেলের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তারা জানিয়েছিল, তাদের পারিবারিক কবরস্থানে আমার বোনকে দাফন করা হবে।
কিন্তু সকাল হতেই তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ মারুফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক উপমা চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আমরা তার স্বজনদের খুঁজেছি, তবে কাউকে পাইনি। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, গৃহবধূর গলায় একটি দাগ রয়েছে। এটি আঘাতজনিত কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
