সিলেটে নেতাকর্মীদের যে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেটে নেতাকর্মীদের যে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

একদিনের সংক্ষিপ্ত সফর। দুই উপ-জেলায় পৃথক কর্মসূচি। দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়। নিজের ইচ্ছায় দলের প্রবীণ নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজারের এই সংক্ষিপ্ত সফরে বড় বার্তা দিয়েছেন দলের নেতাকর্মীদের। নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, দল সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ না থাকলে মানুষের সেবা করা সহজ হবে না।

জনগণের রায়ে বিএনপি সরকারে এসেছে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। এজন্য টিমওয়ার্ক দরকার। মানুষের কষ্ট দুর্ভোগ হয় এমন কাজ করা যাবে না। দলীয় নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী এমন নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের এই নির্দেশনা পেয়ে দলীয় নেতারাও উজ্জীবিত। একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বুধবার সকালে ঢাকা থেকে সিলেট যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দরে নেমেই দলীয় এমপিদের এক বিশেষ বার্তা দেন।

তাকে স্বাগত জানান সেখানে উপস্থিত এমপিদের তিনি প্রশ্ন করেন, আপনারা এখানে কেন, সংসদ অধিবেশন আছেতো, সংসদে যান। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা পেয়ে এমপিদের একটি দল বিকালেই ঢাকায় ফিরে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেন। বলা হচ্ছে- দলীয় এমপিদের জন্য এটি একটি বিশেষ বার্তা। ওদিকে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের পৃথক সমাবেশ শেষ করে দলীয় সভায় অংশ নেয়ার আগে তারেক রহমান তার মায়ের ঘনিষ্ট সহচর, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীকে দেখতে তার বাসায় যান। অসুস্থ খালেদা রব্বানী অনেকদিন থেকেই অসুস্থ। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও দলের এই নেত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের বিষয়টিকেও দলের জন্য একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, দলীয় প্রধান দলের সব নেতাকর্মীকে যেভাবে দেখেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দকেও এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

দিনের কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্টে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকে তিনি দলীয় নেতাদের এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপি’র একাধিক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন-দলীয় প্রধানের সঙ্গে ওই বৈঠকটি ছিল পূর্ব-নির্ধারিত। ওখানে মৌলভীবাজার বিএনপি’র নেতারা ছাড়াও সিলেট বিভাগ বিএনপি’র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয় মৌলভীবাজার বিএনপি’র কমিটির বিষয়টি। বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে জেলা বিএনপি’র কার্যক্রম চলছে বলে দলীয় প্রধানকে অবগত করা হয়। একই সঙ্গে নেতাদের তরফ থেকে জানানো হয়, মৌলভীবাজার বিএনপি’র ৫টি ইউনিটের সম্মেলন শেষ না হওয়ার কারণে জেলার সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বক্তব্য শোনার পর দলীয় প্রধান বাকি থাকা ৫টি ইউনিটের সম্মেলন ও কাউন্সিল শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলার সম্মেলন করারও তাগিদ দেন। একই সঙ্গে গোটা দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে দল গোছানোর কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- মৌলভীবাজার বিএনপি’র কার্যক্রমের বিষয়টি দলীয় প্রধানের নজরে আনায় তিনি দ্রুত সম্মেলন করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে গোটা দেশে দল গোছানোর মেসেজও তার তরফ থেকে এসেছে। তিনি বলেন- সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বাস্তবায়িত কর্মসূচির বিষয়টি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন- নেতাকর্মীরা গাড়ি বহর নিয়ে জনগণের কাছে যাবে না। প্রয়োজনে রিকশা, পাবলিক যানবাহন ব্যবহার করে যেতে হবে। জনগণের কষ্ট হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তার পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। এদিকে- অতীতের মতো সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বর্তমানেও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ এসেছে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে। দলের ভেতরে যাতে কোনো বিভক্তি না হয় সেজন্য সিনিয়র নেতাদের সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।

বলেছেন, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সিলেট অঞ্চলে দলকে আরও বেশি সুসংগঠিত করতে হবে। দল দুর্বল হয়ে পড়লে সরকারও দুর্বল হয়ে পড়বে। এজন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের জন্য কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকের ব্যাপারে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি’র তরফ থেকে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই দফাগুলো এখন সরকারের দফা হয়ে গেছে। সরকারের তরফ থেকে ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেয়া হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের জন্য নানা কর্মসূচি চলছে। এর সফলতা অনেক। মানুষের কাছে সরকারের সফলতার বিষয়টি পৌঁছে দিতে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যেনো কাজ করে যান সে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এসেছে।

আরও পড়ুন:
ম্যাজিক মেসি

তিনি বলেন, মানুষের মন জয় করতে হলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একতা থাকতে হবে। যদি একতা না থাকে তাহলে ঘাটতি থেকে যাবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্ব স্ব ইউনিটের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে টিমওয়ার্ক গড়ে তোলার নির্দেশনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, ড. এনামুল হক, ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি ও সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, মৌলভীবাজার বিএনপি নেতা ফয়জুল করিম ময়ূন, আব্দুর রহিম রিপন প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা রব্বানীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী, প্রশংসা নেতাকর্মীদের: প্রবীণ নেত্রী খালেদা রব্বানীকে দেখতে যাওয়ায় নেতাকর্মীদের প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সাক্ষাতের দৃশ্য দেখে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রশংসা করছেন দলীয় প্রধানের। রাজপথের আন্দোলনের সাহসী নারী নেত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বেগম খালেদা রব্বানীকে দেখতে ও তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে তার বাসভবনে যান বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বিকালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ থেকে ভার্চ্যুয়ালি দেশের ২০টি জেলার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর ৩য় পর্যায়ের বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত দুসাই রিসোর্টে রাজনৈতিক জনসভায় যোগদানের আগে তিনি শহরের শাহ মোস্তফা সড়ক এলাকায় খালেদা রব্বানীর বাসভবন যান। সেখানে তিনি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন। তার সুস্থতা কামনা করেন। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হন প্রবীণ এই নেত্রী।

গাড়ি থামিয়ে ইচ্ছে পূরণ ছাত্রদলের দুই কর্মীর: মৌলভীবাজার সফরকালে কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসার প্রতিদানে কাছে টেনে নিয়ে দৃষ্টান্ত রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সড়কের পাশে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে থাকা ছাত্রদলের দুই কর্মীর দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছে পূরণ করেন তিনি। তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন। তাদের ফুল গ্রহণ করে কাছে ডেকে কথা বলেন। বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পথে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কের (কুদালীপুল) জগন্নাথপুর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থামিয়ে ফুল উপহার নেন মৌলভীবাজার পৌর ছাত্রদলের শাহীন আহমেদ ও তানভীর আহমেদের কাছ থেকে। হঠাৎ দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত দৃশ্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই দুই কর্মী। তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে ভিডিও তোলার সুযোগ পান। এ সময় উপস্থিত উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন